দেশের চলমান জ্বালানি সংকট ও এর প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যা পরে সংসদে অনুমোদনের দিকে এগোয়।
এই কমিটির মূল উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকর সুপারিশ তৈরি করা। কমিটিতে মোট ১০ জন সদস্য থাকবেন। এর মধ্যে পাঁচজন আসবেন সরকারি দল থেকে এবং বাকি পাঁচজন বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন মন্ত্রী, যিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারি সূত্র জানায়, জ্বালানি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহন খাতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সংসদে একটি সমন্বিত কমিটি গঠনের প্রস্তাবকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কমিটি জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, বিতরণ এবং মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও তৈরি করবে।
বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে বলেন, তারা এই কমিটির জন্য দ্রুত সদস্যদের নাম জমা দেবেন এবং সমন্বিতভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট কোনো একক দলের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় সমস্যা, তাই দলীয় বিভাজনের বাইরে এসে সমাধান খুঁজতে হবে।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামার প্রভাব কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়েও কাজ করবে কমিটি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের যৌথ সংসদীয় কমিটি সাধারণত দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে এবং নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়ায়। তবে কার্যকর ফল পেতে হলে কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরতা বেশি। ফলে বৈশ্বিক সংকট বা যুদ্ধ পরিস্থিতি সরাসরি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলে।
নতুন এই কমিটি যদি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন খরচ এবং শিল্প খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কসমিক ডেস্ক