মাদক কেলেঙ্কারিতে ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছিলেন ম্যারাডোনা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মাদক কেলেঙ্কারিতে ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছিলেন ম্যারাডোনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 9, 2026 ইং
মাদক কেলেঙ্কারিতে ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছিলেন ম্যারাডোনা ছবির ক্যাপশন: মাদক কেলেঙ্কারিতে ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছিলেন ম্যারাডোনা

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হলো আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৯৪ বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা। মাঠে তার উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত—মাত্র দুটি ম্যাচে ১৭৩ মিনিট। কিন্তু এই স্বল্প সময়ই হয়ে ওঠে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে নাটকীয় এবং ট্র্যাজিক অধ্যায়।

১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে বিশ্ব ফুটবলে বড় পরিবর্তন ঘটে। ইংল্যান্ডে প্রিমিয়ার লিগের উত্থান ফুটবলকে ধীরে ধীরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করে। অন্যদিকে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত জীবন তখন ক্রমশ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। নেপলসে খেলাকালীন সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তির অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছিল, যা ১৯৯১ সালে বাস্তবে রূপ নেয়। সেই বছর সেরি-আ লিগে ডোপ টেস্টে কোকেন ধরা পড়ায় তিনি ১৫ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হন।

এই নিষেধাজ্ঞা তার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা দেয়। ব্রিটিশ মিডিয়া তাকে আরও কঠোরভাবে উপস্থাপন করে, যা তার ইমেজ সংকটকে আরও গভীর করে তোলে। তবে জাতীয় দল আর্জেন্টিনার জন্য তার গুরুত্ব কমেনি।

১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার কোয়ালিফিকেশন পর্বেও ম্যারাডোনার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফে তার নেতৃত্ব দলকে বিশ্বকাপে পৌঁছে দেয়। কিন্তু মূল টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তার বিরুদ্ধে আবারও মাদক ব্যবহার ও আচরণগত সমস্যার অভিযোগ ওঠে।

বিশ্বকাপের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা দল শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামলেও ম্যারাডোনাকে ঘিরে বিতর্ক দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রথম ম্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে তিনি কিছুটা পুরনো ছন্দে ফিরে আসেন এবং দলের জয়ে অবদান রাখেন। বাতিস্তুতার হ্যাটট্রিকসহ ৪-০ গোলের বড় জয় আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

তবে দ্বিতীয় ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ম্যাচ শেষে ডোপ টেস্টে ম্যারাডোনার শরীরে নিষিদ্ধ পদার্থ এফিড্রিন পাওয়া যায়। এর ফলে ফিফা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করে।

FIFA-এর এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। আর্জেন্টিনা দল এবং ভক্তদের জন্য এটি ছিল এক ভয়াবহ ধাক্কা। ম্যারাডোনা দাবি করেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিষিদ্ধ কিছু নেননি, বরং একটি এনার্জি ড্রিংকের মাধ্যমে তা তার শরীরে প্রবেশ করেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি।

এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে শেষ হয়ে যায় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিশ্বকাপ অধ্যায়। আর্জেন্টিনা দল অবশ্য টুর্নামেন্টে এগিয়ে গেলেও ম্যারাডোনার অনুপস্থিতি দলের উপর মানসিক প্রভাব ফেলেছিল।

ম্যারাডোনার গল্প শুধু ফুটবলের নয়, এটি খ্যাতি, পতন, বিতর্ক এবং মানবিক দুর্বলতার এক জটিল প্রতিচ্ছবি। তিনি একদিকে যেমন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, অন্যদিকে তেমনি তার ব্যক্তিগত জীবন তাকে বিতর্কের কেন্দ্রেও নিয়ে গেছে।

১৯৯৪ বিশ্বকাপ তাই কেবল একটি ক্রীড়া ইভেন্ট নয়—এটি এক কিংবদন্তির শেষ আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের প্রতীক, যেখানে গৌরবের সঙ্গে মিশে আছে ব্যথা, ভুল এবং পতনের ইতিহাস।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মন্ত্রিপরিষদে নতুন মুখ আহমেদ আযম খান, শপথ নিলেন মন্ত্রী হিসে

মন্ত্রিপরিষদে নতুন মুখ আহমেদ আযম খান, শপথ নিলেন মন্ত্রী হিসে