মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে United States। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশটির তেল শিল্প ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে U.S. Department of the Treasury।
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ইরানের তেল পরিবহন অবকাঠামো। এর আওতায় পেট্রোলিয়াম শিপিং খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তি Mohammad Hossein Shamkhani-এর নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ডজনেরও বেশি ব্যক্তি, কোম্পানি এবং জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই নেটওয়ার্কটি বিভিন্ন উপায়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানি তেল রপ্তানিতে সহায়তা করছিল।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি Scott Bessent এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘Economic Fury’ নামে একটি আগ্রাসী অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেইসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করা হচ্ছে, যারা দেশের জনগণের স্বার্থের বিনিময়ে নিজেদের লাভবান করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য, শামখানি পরিবারের সঙ্গে ইরানের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কাঠামোর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। Ali Shamkhani, যিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর উপদেষ্টা ছিলেন, তার পরিবারের সদস্যরাই এই নেটওয়ার্ক পরিচালনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে U.S. Department of State-ও একটি পৃথক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালীকে ‘জিম্মি’ করে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের রাজস্ব আয়ের সক্ষমতা সীমিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সময় ১৪ এপ্রিল ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট আরও জানায়, তারা ইরানি তেল বিক্রির জন্য আগে দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মওকুফের মেয়াদ আর বাড়াবে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সমুদ্রপথে ইরানি তেল বিক্রি করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়ায় আগে এই ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান ও United Arab Emirates-এ সক্রিয় শামখানি নেটওয়ার্কটি আপাতদৃষ্টিতে বৈধ কিছু পরামর্শক ও শিপিং কোম্পানির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলছিল। এসব কোম্পানি মূলত নেটওয়ার্কটির জাহাজ পরিচালনা ও তেল পরিবহনের কাজ করত। গত বছরও যুক্তরাষ্ট্র এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
এছাড়া ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট Seyed Naimai Badruddin Mousavi নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যাকে তারা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী Hezbollah-এর অর্থদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সোনা বিনিময়ে ইরানি তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি জটিল অর্থপাচার চক্রের অংশ বলে সন্দেহভাজন তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বব্যাপী বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়, ফলে সেখানে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ইরান এই চাপের মোকাবিলা কীভাবে করে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব কতটা গভীর হয়।
কসমিক ডেস্ক