দেশের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহল। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।
সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে এক বার্তায় বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করায় তারা সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
তার মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে জ্বালানি তেলের মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতা কমে আসবে। একই সঙ্গে বিক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।
এর আগে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা, ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এই মূল্য সমন্বয় একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের বাজারকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি—এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
নতুন এই দাম রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। ফলে দেশের সব ফিলিং স্টেশন ও পরিবেশক পর্যায়ে নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি পরিবহন খাত ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাজারে স্বচ্ছতা ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মূল্য সমন্বয় অনেক সময় প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, পেট্রোল পাম্প মালিকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কম দামে জ্বালানি বিক্রির কারণে বাজারে অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছিল। নতুন দামে সেই ভারসাম্য কিছুটা ফিরবে বলে তারা আশা করছেন।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে যেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে, সেখানে ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। ভবিষ্যতে এর বাস্তব প্রভাব কেমন হবে, তা নির্ভর করবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর।