দেশে ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বেড়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দাম। ১২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডারের মূল্য এক লাফে ৩৮৭ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন করে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এপ্রিল মাসের জন্য এই নতুন মূল্য ঘোষণা করে। প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে নতুন মূল্য কার্যকর হয়।
এলপিজি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎস, বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ নেই, সেখানে এটি রান্নার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব পড়ে।
বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে দেশে এলপিজির মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করে আসছে সংস্থাটি। এলপিজি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব উপাদানের দাম ওঠানামার ওপর নির্ভর করে দেশে এলপিজির দাম নির্ধারিত হয়।
বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো প্রতি মাসে প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্য নির্ধারণ করে, যা সৌদি কার্গো প্রাইস বা সিপি নামে পরিচিত। এই সিপিকে ভিত্তি ধরে বাংলাদেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়। পাশাপাশি আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর চালান মূল্য এবং ডলারের বিনিময় হার হিসাব করে গড় মূল্য নির্ধারণ করে বিইআরসি।
১২ কেজি সিলিন্ডার দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় এই শ্রেণিতে মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। একসঙ্গে ৩৮৭ টাকা বৃদ্ধি হওয়ায় পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে। তবে এমন বড় অঙ্কের বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য এটি একটি বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
এলপিজির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গৃহস্থালি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সামগ্রিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বাড়ার ফলে অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এপ্রিল মাসে এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ দেশের জ্বালানি বাজারে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন ভোক্তাদের জন্য এই বাড়তি খরচ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।