বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের চারটি জেনারেশনকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্ম, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নানা অভিযোগ তোলেন।
ফজলুর রহমান বলেন, দেশের নতুন প্রজন্ম নষ্ট হয়ে গেছে এবং এর পেছনে দীর্ঘদিনের একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে। তার ভাষায়, “এ দেশে অনেক চক্রান্ত করে গুপ্ত সংগঠন সৃষ্টি করে একটা রাজনৈতিক দল গড়ে তোলা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, এই ধরনের সংগঠন তরুণদের বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক আন্দোলনে ব্যবহার করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনেকেরই শিক্ষা, সংস্কৃতি বা সামাজিক মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তারা শুধু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।
বিএনপি এমপি তার বক্তব্যে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগও করেন। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর কিছু ব্যক্তি প্রশাসনিক পর্যায়ে গিয়ে অর্থ লেনদেনের চেষ্টা করেছেন। তার ভাষায়, কুমিল্লার একজন জেলা প্রশাসকের কাছে ১৫ কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং আরেকজন ব্যক্তি—যাকে তিনি এমপি হিসেবে উল্লেখ করেন—১০ কোটি টাকা দাবি করেছেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি হাসনাত আবদুল্লাহর নাম উল্লেখ করে তাকে লক্ষ্য করে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ বা স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “এরা অমানুষ, চিটার-বাটপার। এদের মতো মানুষ ধ্বংস করার কোনো মেশিন এখনো আবিষ্কার হয়নি।” তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যখন বিভিন্ন পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলছে, তখন জনমনে বিভ্রান্তি ও বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে এসব বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক