রংপুর নগরীতে কেবল অপারেটর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকির অভিযোগে দুই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন রংপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুর রহমান মনু এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশীদ গালিব। কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় ‘ক্যাবল ওয়ান’ নামে একটি কেবল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের ফিডার লাইন নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকার একটি ফিডারের নিয়ন্ত্রণ গালিবের নামে দেওয়ার জন্য কয়েকদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। কর্তৃপক্ষ এতে রাজি না হওয়ায় রোববার দুপুর ২টার দিকে রংপুর প্রেসক্লাব ভবনের উল্টো দিকে অবস্থিত ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মনু ও গালিবের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক অফিসে প্রবেশ করে। তারা অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার কাফিকে হুমকি দিয়ে বলা হয়—রাতের মধ্যে ফিডার গালিবের নামে না দিলে তার বাসায় গিয়ে পরিবারসহ গুলি করে হত্যা করা হবে।
এ সময় এক কর্মকর্তাকে মারধর এবং ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর আতঙ্কিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয় ছেড়ে চলে যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, প্রতিষ্ঠান ও পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
ধর্মঘটের ফলে রংপুর মহানগরীসহ পুরো জেলায় ডিশ লাইনের মাধ্যমে টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। এতে সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার ব্যাহত হয় এবং সাধারণ দর্শকরা ভোগান্তিতে পড়েন। তবে দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর ভোর থেকে আবার ডিশ লাইন সচল করা হলে সম্প্রচার স্বাভাবিক হয়।
এদিকে সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রংপুরসহ সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে ঘটনাটি দেখছেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজাহান আলী জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাবল ওয়ানের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।”
অভিযুক্ত মনুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, রংপুরে কেবল অপারেটর কার্যালয়ে হামলা ও হত্যার হুমকির ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখন নজর আইনগত প্রক্রিয়ার দিকে।
কসমিক ডেস্ক