সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ঈদ উপলক্ষ্যে ট্রেনযাত্রা শুরুর প্রথম দিনে ঢাকার প্রধান রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানির অভাবের কারণে গণপরিবহন খাতে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও নেই।
তিনি জানান, সরকার ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রীদের নিরাপদ ও সময়মতো যাতায়াত নিশ্চিত করতে রেল, সড়ক এবং নৌপথে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় চলে যান। সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেন।
তিনি বলেন, এত স্বল্প সময়ের মধ্যে এত মানুষের যাতায়াত বিশ্বের খুব কম শহরেই দেখা যায়। ফলে এটি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
মন্ত্রী জানান, সরকার এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। রেলওয়ে, সড়ক পরিবহন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
রেল যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদযাত্রার সময় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকোমোটিভ থাকা প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, রেলওয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অন্তত ৮৫ থেকে ৮৭টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন। বর্তমানে ৭৮টি লোকোমোটিভ কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি লোকোমোটিভ যুক্ত করা হলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে এবং ট্রেন চলাচল আরও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রার সময় ট্রেন, বাস এবং লঞ্চ—সব ধরনের গণপরিবহনের ওপর চাপ বেড়ে যায়। তাই যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
রেলস্টেশন পরিদর্শনের সময় তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের যাত্রা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার বিষয়েও খোঁজখবর নেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হবে এবং যাত্রীরা নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
কসমিক ডেস্ক