রাজধানীর Mirpur এলাকায় ৭৫ বছর বয়সী Noor Jahan Begum-এর মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে তার ছেলে, যুগ্ম সচিব Dr. A K M Anisur Rahman-কে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৪ জুন) Ministry of Public Administration Bangladesh এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, আনিসুর রহমান বর্তমানে Mongla Port Authority-এর সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে তার নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে গত ৩১ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহটি দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় পচন ধরে এবং এতে পোকার উপস্থিতি দেখা যায়।
জানা গেছে, নূর জাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। তবে বাসাটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে ওই বাসার করুণ অবস্থা উঠে আসে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে থাকলেও কীভাবে একজন বৃদ্ধা এমন অবহেলার মধ্যে জীবন কাটালেন।
জানা যায়, নূর জাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে Bangladesh University of Engineering and Technology (বুয়েট)-এর শিক্ষক এবং মেয়ে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। পরিবারের সদস্যরা শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও মায়ের এই করুণ পরিণতি সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে Parents Maintenance Act 2013 Bangladesh। এই আইনে প্রত্যেক সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ, চিকিৎসা এবং সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এসব দায়িত্ব পালনের কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমাজে বৃদ্ধদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সচেতনতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে আনিসুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হলেও, এই ঘটনা সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—পিতা-মাতার যত্ন নেওয়া শুধু আইনি নয়, নৈতিক দায়িত্বও।
সব মিলিয়ে, মিরপুরের এই ঘটনাটি যেমন মানবিক দিক থেকে বেদনাদায়ক, তেমনি এটি সামাজিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক