সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের নাচনি চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক গোলাম রব্বানীর পরিবার বর্তমানে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়ার পর তার শেষ সম্বল মাছ ধরার নৌকাটিও চুরি হয়ে যাওয়ায় জীবিকা নির্বাহের সব পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (১৩ জুন) গোলাম রব্বানী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১১ কেয়ার জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ৫ কেয়ার জমির ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হন। অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে বাকি ফসলের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় ঋণের চাপে তাকে ৮ কেয়ার জমি বন্ধক রাখতে হয়।
তিনি আরও জানান, ফসলের ক্ষতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এর মধ্যেই পরিবারের আয়ের একমাত্র ভরসা মাছ ধরার নৌকাটি চুরি হয়ে যায়। ওই নৌকায় মাছ ধরে দুই ভাইয়ের সংসার কোনোভাবে চলার আশা ছিল। এখন সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম রব্বানীর পরিবারে ১১ জন সদস্য রয়েছে। দুই ভাইয়ের যৌথ পরিবারে বৃদ্ধ মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তাদের জীবনযাপন। হাওরাঞ্চলের অন্যান্য পরিবারের মতো তাদেরও জীবিকা কৃষিকাজ ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।
এ বছর বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পর মাছ ধরা ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু নৌকা চুরির ঘটনায় সেই উপার্জনের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হাওরাঞ্চলে নৌকা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং অনেক পরিবারের জীবিকার প্রধান উপকরণ। তাই তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে নৌকাটি উদ্ধারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কসমিক ডেস্ক