রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন ঈদগাহে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ হিসেবে পরিচিত এই ময়দানে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী।
মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদগাহ ময়দানে নির্মাণ করা হয়েছে ৩০০টি ওজুখানা এবং ৪০টি শৌচাগার। পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবার পানিরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে মাঠজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ।
ঈদগাহের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বসানো হয়েছে ৫০টি সিসি ক্যামেরা।
এ ছাড়া মাঠের মাঝখানে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি ওয়াচ টাওয়ার বা পর্যবেক্ষণ মিনার, যেখান থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথেও সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার জেদান আল মুসাকে সঙ্গে নিয়ে ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং সবাইকে গোর-এ শহীদ ময়দানে এসে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মুসল্লিরা যাতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা জানান, শহরের প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ঈদগাহে আসতে ও ফিরে যেতে পারেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিন সেখানে বড় কোনো মিনার ছিল না। পরে ২০১৫ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২১ দশমিক ৯৯ একর জমির ওপর নির্মিত এই ঈদগাহে ২০১৭ সালে শেষ হয় মিনার নির্মাণের কাজ। ৫২ গম্বুজবিশিষ্ট মিনারটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ টাকা। পুরো স্থাপনাটি সিরামিক দিয়ে তৈরি এবং এতে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা।
রাত নামলেই আলোকিত হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক এই ঈদগাহ। প্রতি বছর দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসল্লি এখানে ঈদের জামাতে অংশ নেন।
কসমিক ডেস্ক