ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের অভিযোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 11, 2026 ইং
ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, সংঘাতের গত দশ দিনে ইরান নিয়মিতভাবে এই ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করছে।

গুচ্ছ বোমা এমন এক ধরনের বিস্ফোরক অস্ত্র, যা আকাশ বা ভূমি থেকে নিক্ষেপ করার পর মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে অসংখ্য ছোট আকারের বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়। এসব ছোট বিস্ফোরককে সাধারণত ‘সাবমিউনিশন’ বা ‘বোম্বলেট’ বলা হয়। বিস্ফোরণের পর এগুলো বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

সাধারণত এই ধরনের অস্ত্র সামরিক ট্যাংক, যানবাহন বা সৈন্যবাহিনীর অবস্থান ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারে সাধারণ মানুষের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। কারণ অনেক সময় বিস্ফোরণের সময় সব বোম্বলেট বিস্ফোরিত হয় না। এসব অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক দীর্ঘ সময় মাটিতে পড়ে থাকতে পারে এবং পরে হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডে গুচ্ছ বোমা রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়।

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র গবেষক ইয়েহোশুয়া কালিস্কি এ বিষয়ে বলেন, ইসরায়েলের অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর হলেও একটি জটিল সমস্যা থেকে যায়। যদি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হওয়ার আগেই এর ভেতরে থাকা ছোট বিস্ফোরকগুলো ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেগুলো প্রতিরোধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

এই ধরনের প্রতিটি ছোট বিস্ফোরকের ওজন সাধারণত তিন কেজিরও কম হয়। বড় ভবন ধ্বংসের তুলনায় এগুলো মানুষ, যানবাহন বা ছোট স্থাপনার মতো লক্ষ্যবস্তুর জন্য বেশি বিপজ্জনক। বিস্ফোরণের সময় এসব বোম্বলেট বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক সময় এসব বোম্বলেট বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে। পরে সেগুলো ল্যান্ডমাইনের মতো আচরণ করতে পারে এবং হঠাৎ বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটাতে পারে। ফলে সংঘাত শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এসব বিস্ফোরক সাধারণ মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে থাকে।

মঙ্গলবার ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে এমন একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজনসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রুস্তম গুলমোভ এবং আমিদ মুর্তুজোভ নামে দুইজনের বয়স চল্লিশের কোঠায় এবং তারা পেতাহ তিকভা শহরের বাসিন্দা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড থেকে ছড়িয়ে পড়া ছোট ছোট বোমা ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের অন্তত ছয়টি স্থানে আঘাত হেনেছে। এসব স্থানের মধ্যে ইয়েহুদ, অর ইয়েহুদা, হোলোন এবং বাত ইয়াম শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটি ওয়ারহেডে সাধারণত ২০ থেকে ২৪টি বোম্বলেট থাকতে পারে। ফলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হলে একসঙ্গে বড় এলাকায় ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে ইরান একযোগে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিবর্তে তুলনামূলক কম সংখ্যক কিন্তু শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। ধারণা করা হচ্ছে, বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালাতে কিছু সীমাবদ্ধতার মুখে পড়লেও গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করে সীমিত হামলার মধ্যেই সর্বোচ্চ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের ফলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের নেপথ্যে নোবেলজয়ী মাচাদো

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের নেপথ্যে নোবেলজয়ী মাচাদো