ডিজিটাল করের চাপ সামলাতে বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর অতিরিক্ত ফি বসাচ্ছে মেটা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ডিজিটাল করের চাপ সামলাতে বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর অতিরিক্ত ফি বসাচ্ছে মেটা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 11, 2026 ইং
ডিজিটাল করের চাপ সামলাতে বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর অতিরিক্ত ফি বসাচ্ছে মেটা ছবির ক্যাপশন: ডিজিটাল সেবা করের চাপ সামলাতে ইউরোপে বিজ্ঞাপন প্রচারে নতুন ‘লোকেশন ফি’ চালু করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা।

ডিজিটাল সেবা করের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ‘লোকেশন ফি’ নেওয়া হবে। মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আরোপিত ডিজিটাল করের খরচ সমন্বয় করতেই এই নতুন ফি চালু করা হচ্ছে।

মেটার ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হবে। এই নতুন নিয়ম আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। ফলে ইউরোপে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে গেলে বিজ্ঞাপনদাতাদের আগের তুলনায় কিছুটা বেশি খরচ বহন করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই ফি মূলত তাদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের ওপর প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে ছবি ও ভিডিও বিজ্ঞাপন ছাড়াও ক্লিক-টু-মেসেজ ক্যাম্পেইন, বিপণন বার্তার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মেটার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ। এসব প্ল্যাটফর্মে ব্যবসায়িক প্রচারণা চালানো বিশ্বজুড়ে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিপণন কৌশল। ফলে নতুন এই ফি বিজ্ঞাপন বাজারে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এত দিন পর্যন্ত ডিজিটাল সেবা করের কারণে যে অতিরিক্ত খরচ তৈরি হচ্ছিল, তা মেটা নিজেই বহন করছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক পরিবেশে পরিবর্তন আসায় এই ব্যয় বহন করা প্রতিষ্ঠানটির জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। তাই নতুন নীতিমালার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর আংশিকভাবে এই খরচ স্থানান্তর করা হচ্ছে।

মেটা আরও জানিয়েছে, বিজ্ঞাপনদাতার ব্যবসার অবস্থান বা কোম্পানির নিবন্ধনের দেশ নয়, বরং যে দেশে বিজ্ঞাপনটি দেখা হবে সেই দেশের ওপর ভিত্তি করেই ‘লোকেশন ফি’ নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ কোনো বিজ্ঞাপন যদি এমন কোনো দেশে প্রদর্শিত হয় যেখানে ডিজিটাল কর প্রযোজ্য, তাহলে সেই দেশের হার অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে।

প্রাথমিকভাবে ছয়টি দেশে এই ফি কার্যকর করা হবে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ২ শতাংশ, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ৩ শতাংশ করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া ও তুরস্কে ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি ধার্য করা হবে।

ডিজিটাল সেবা কর বা ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স (DST) সাধারণত বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্থানীয় আয়ের ওপর নির্দিষ্ট হারে আরোপ করা হয়। অনেক দেশ মনে করে, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দেশে বিপুল আয় করলেও স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কর দেয় না। সেই কারণেই এই কর চালু করা হয়েছে।

তবে এই কর নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কও রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন একাধিকবার এই করের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, ডিজিটাল কর মূলত মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি কোম্পানির বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক।

প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজিটাল কর কার্যকর হওয়ায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। খরচের ভার কমাতে তারা বিজ্ঞাপনদাতা বা গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপের পথ বেছে নিচ্ছে।

এর আগে গুগল এবং অ্যামাজনও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারা ইউরোপে বিজ্ঞাপন ও অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আরোপ করে ডিজিটাল করের খরচ সমন্বয়ের চেষ্টা করে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের খরচ কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক নীতিমালা ও কর কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে আরও দেশ ডিজিটাল কর চালু করলে প্রযুক্তি খাতে এই ধরনের অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজারের কাঠামোতেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বরিশালে ইলিশের আকাল, আকাশছোঁয়া দাম

বরিশালে ইলিশের আকাল, আকাশছোঁয়া দাম