নির্ধারিত সময় পেরোলেও শুরু হয়নি সংবিধান সংস্কার পরিষদ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্ধারিত সময় পেরোলেও শুরু হয়নি সংবিধান সংস্কার পরিষদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 15, 2026 ইং
নির্ধারিত সময় পেরোলেও শুরু হয়নি সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছবির ক্যাপশন:

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি বলে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিবেশন আহ্বানের বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা। অধিবেশনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনি বাধ্যবাধকতা এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১০ নম্বর অর্ডারে বলা হয়েছে—সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যেভাবে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, ঠিক একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশনও আহ্বান করতে হবে।

তিনি বলেন, আজ সেই নির্ধারিত সময়ের শেষ দিন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়টি সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন বলে জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করবেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন। বিধি অনুযায়ী শপথ গ্রহণের পর বিরোধীদলীয় ৭৭ জন সদস্য নির্ধারিত তফসিলে স্বাক্ষর করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আগে তো পরিষদের কার্যক্রম শুরু করতে হবে, তারপর সমাপ্তির প্রশ্ন আসবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের জন্য পৃথক ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল। জনগণের সেই মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন আহ্বান করা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।

তার মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হলে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। অন্যথায় পুরো সংস্কার কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা হলে পরিণতি ভালো হবে না

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা হলে পরিণতি ভালো হবে না