লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে তিন এতিম কন্যাসন্তান ও বিধবা স্ত্রী রোমানা আক্তারকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেবর মানিক হোসেন ও ভাসুর বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে। উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের ডিহিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী রোমানা আক্তার জানান, তার স্বামী সাত বছর আগে মারা যান। এরপর শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে একই ঘরে বসবাস করছিলেন তিনি ও তার সন্তানরা। তার অভিযোগ, শ্বশুর মারা যাওয়ার পর ভাসুর ও দেবর তাকে ও তার তিন মেয়েকে ঘর থেকে বের করে দেন।
তিনি দাবি করেন, শ্বশুর জীবিত থাকাকালে জায়গা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল না। বরং তার স্বামী পূর্বে পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত অর্থ প্রদান করেছিলেন এবং কিছু জমি তার মেয়েদের নামে রয়েছে। এরপরও তাদের ঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি তিন এতিম সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিজের ঘর ও আসবাবপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে ঘরে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
তার মেয়ে, ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মাইশা আক্তার জানায়, তারা নানাবাড়িতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে এবং নিজেদের ঘরে ফিরতে পারছে না।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ভাসুর বিল্লাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের পিতার দেওয়া জমি অনুযায়ী অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে দেবর মানিক হোসেনও দাবি করেন, বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও এখনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। জমি মাপজোক ও অংশ নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালালেও এখনো পরিবারটি তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কসমিক ডেস্ক