কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Meta Platforms। প্রতিষ্ঠানটি ‘এআই পেনডেন্ট’ নামে একটি পরিধানযোগ্য ডিভাইস তৈরি করছে, যা কর্মক্ষেত্রের মিটিং ও আলোচনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করে সারাংশ তৈরি করতে সক্ষম হবে।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটার রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগ এই ডিভাইসটির উন্নয়নে কাজ করছে। মূল লক্ষ্য হলো অফিস ও করপোরেট কাজকে আরও সহজ, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করা।
গলায় ঝোলানো ছোট আকারের এই ডিভাইসে থাকবে উন্নত মাইক্রোফোন, যা মিটিং বা আলোচনার সময় পুরো কথোপকথন শুনতে পারবে। এরপর মেটার এআই প্রযুক্তি সেই অডিওকে লিখিত রূপে রূপান্তর করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সিদ্ধান্ত এবং দায়িত্বের তালিকা তৈরি করবে।
পরবর্তীতে এই তথ্য ব্যবহারকারীর স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে পাঠানো হবে, যাতে তাৎক্ষণিকভাবে মিটিংয়ের সারাংশ পাওয়া যায়। ফলে আলাদা করে নোট নেওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে যাবে এবং কর্মীরা আলোচনায় বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই ডিভাইস চালু হলে অফিস মিটিংয়ের কাজের ধরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত দীর্ঘ মিটিং করেন, তাদের জন্য এটি সময় সাশ্রয়ী একটি সমাধান হতে পারে।
তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, মিটিংয়ের সময় বলা ব্যক্তিগত বা অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তাও রেকর্ড হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া এসব ডেটা কতটা নিরাপদ থাকবে এবং কে এগুলো ব্যবহার করতে পারবে—এ বিষয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহারে শক্ত ডেটা সুরক্ষা নীতিমালা থাকা জরুরি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, মেটা এআই পেনডেন্ট বাজারে আসতে পারে ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে। তবে এর দাম বা আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে মেটা স্মার্ট চশমা বাজারে এনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ক্যামেরা, ভয়েস কমান্ড এবং এআই সুবিধাসমৃদ্ধ সেই ডিভাইস ব্যবহারকারীদের হাত ছাড়াই ছবি তোলা, কল করা এবং তথ্য অনুসন্ধানে সহায়তা করে।
নতুন এই এআই পেনডেন্ট সফল হলে ভবিষ্যতে অফিস সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে মিটিং পরিচালনা, নোট নেওয়া এবং সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া আরও স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, মেটার এই নতুন উদ্যোগ প্রযুক্তি বিশ্বে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের স্মার্ট ওয়ার্কপ্লেসের ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।
কসমিক ডেস্ক