হাজীগঞ্জে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আবাসিক হোটেল বন্ধ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হাজীগঞ্জে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আবাসিক হোটেল বন্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 13, 2026 ইং
হাজীগঞ্জে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আবাসিক হোটেল বন্ধ ছবির ক্যাপশন:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হোটেলটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত ব্যক্তি ইলিয়াস কাজী (৬০), যিনি জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঘনিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তিনি শুক্রবার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে হোটেলে অবস্থান করছিলেন। পরদিন দুপুর পর্যন্ত কক্ষের দরজা না খোলায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়।

হোটেল সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে কর্মচারীরা দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

হোটেলের ব্যবস্থাপক জানান, কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ও ক্লান্ত মনে হয়েছিল। তবে তার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি ছিলেন না এবং তিনি একাই কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

হোটেল মালিকের ভাষ্যমতে, হোটেলে প্রবেশের সময় তাকে স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিষ্কার হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, অতীতে ওই হোটেলকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর শোনা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এলাকায় এসেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ বা মামলা করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা থাকলেও প্রশাসন সকলকে গুজব বা অনুমাননির্ভর তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা যাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচের পরিকল্পনা সরকারের

ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচের পরিকল্পনা সরকারের