পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী থেকে গ্রামের পথে মানুষের যাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যমুনা সেতু সংযোগকারী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। বর্তমানে এ মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি যানবাহন চলাচল করছে, যার ফলে দেখা দিয়েছে ধীরগতি।
শনিবার (২৩ মে) মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও বড় ধরনের যানজট না থাকলেও যানবাহন স্বাভাবিকের তুলনায় ধীরে চলছে। বিশেষ করে যমুনা সেতুমুখী অংশে গাড়ির চাপ তুলনামূলক বেশি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা শুরু হওয়ায় সড়কে যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ যানবাহন চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সোমবারের পর থেকে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।
মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় কথা হয় নাটোরগামী এক মাইক্রোবাস চালকের সঙ্গে। তিনি জানান, দুপুরের দিকে ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পর মাঝপথে কোথাও দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয়নি। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় লেগেছে গন্তব্যে পৌঁছাতে।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বাসযাত্রীরাও। ঢাকার এক যাত্রী বলেন, অতিরিক্ত গাড়ির কারণে সড়কে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে, ফলে যাত্রাপথে সময় বেশি লাগছে।
এদিকে সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরেজমিনে যান টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামছুল আলম সরকার। তিনি জানান, মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে কয়েক দিন ধরেই যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, টোল আদায় দ্রুত করতে মোট ১৮টি বুথ চালু রাখা হবে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা ৪টি বুথ রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত যান চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, যানজট এড়াতে এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সেতুর ওপর প্রতি ৩০০ মিটার পরপর সিগন্যালম্যান মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে, যাতে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়।
সব মিলিয়ে, এখনো বড় কোনো যানজট না থাকলেও যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে যমুনা সেতু মহাসড়কে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামনে ঈদের ছুটি যতই ঘনিয়ে আসবে, এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই যাত্রীদের আগেভাগে যাত্রা শুরু করা এবং ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক