নেপাল-ভারত সীমান্ত বিরোধে উত্তেজনা, তৃতীয় পক্ষকে না বলল নয়াদিল্লি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নেপাল-ভারত সীমান্ত বিরোধে উত্তেজনা, তৃতীয় পক্ষকে না বলল নয়াদিল্লি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 3, 2026 ইং
নেপাল-ভারত সীমান্ত বিরোধে উত্তেজনা, তৃতীয় পক্ষকে না বলল নয়াদিল্লি ছবির ক্যাপশন: নেপাল-ভারত সীমান্ত বিরোধে উত্তেজনা, তৃতীয় পক্ষকে না বলল নয়াদিল্লি

নেপাল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সীমান্ত বিরোধ নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সীমান্ত সমস্যা সমাধানে চীন ও যুক্তরাজ্যের মতো তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান। তার এই মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এর মাত্র দুই দিন পর ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্ত বিরোধ সমাধানে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা তারা গ্রহণ করবে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ধরনের বিষয় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানান, ভারত নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী ব্যাখ্যা লক্ষ্য করেছে। তিনি বলেন, ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রায় ৯৮ শতাংশ ইতোমধ্যে চিহ্নিত ও নির্ধারিত করা হয়েছে। তবে কিছু অংশ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, গন্ডক নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে কিছু এলাকায় সীমান্ত নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তের কিছু চিহ্নিত অংশে যৌথভাবে মানচিত্র তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। তবে সেখানে কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ দখল ও সীমান্ত অতিক্রম করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।

ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জয়সওয়াল বলেন, “সীমান্ত সংক্রান্ত সব বিষয় মোকাবেলার জন্য আমাদের দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে। ভারত ও নেপালের মধ্যকার কোনো ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকা নেই।”

অন্যদিকে, রবিবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, তিনি এমন তথ্য পেয়েছেন যে নেপালের কিছু এলাকা ভারতের দখলে রয়েছে। তার এই মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

তবে পরবর্তীতে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে নতুন কোনো ভূখণ্ডগত দাবি হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং তিনি মূলত সীমান্তবর্তী নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবৈধ দখল এবং সীমান্ত অতিক্রম করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।

ভারত ও নেপালের মধ্যে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানি অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ বিদ্যমান। উভয় দেশই এসব এলাকার ওপর নিজেদের সার্বভৌম দাবি করে আসছে। ভারতের দাবি, এসব অঞ্চল তাদের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের সীমান্ত বিরোধ অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদিও দুই দেশই নিয়মিতভাবে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে, তবে মাঝে মাঝে রাজনৈতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বর্তমান অবস্থায় ভারত আবারও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে এবং তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে নেপাল-ভারত সীমান্ত ইস্যুতে কূটনৈতিক অচলাবস্থা না বাড়লেও উত্তেজনা আপাতত অব্যাহত রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ, সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের পাল্টা হামলা

ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ, সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের পাল্টা হামলা