ইরান কখনো মাথানত করে না, ইতিহাস সাক্ষী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরান কখনো মাথানত করে না, ইতিহাস সাক্ষী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 5, 2026 ইং
ইরান কখনো মাথানত করে না, ইতিহাস সাক্ষী ছবির ক্যাপশন:

পৃথিবীতে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, স্টেলথ বিমান, সাইবার কমান্ড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক টার্গেটিং ব্যবস্থার বিচারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শীর্ষে। স্যাটেলাইট আকাশে, ড্রোন সীমান্তে, মিসাইল সমুদ্রের তলদেশ থেকে—তাদের কৌশল সর্বত্র। এর তুলনায় ইরান প্রযুক্তিগত ও সামরিক দিক থেকে পিছিয়ে। তাই এই সংঘাত অসম এবং কঠিন।

ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান সংঘাত দিনে দিনে বিস্তৃত হচ্ছে। ইসরায়েল ইরানের প্রায় দুই হাজার সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। হরমুজ প্রণালিসহ স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে।

ইরান আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে—ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে। কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকিয়ে রাখা ইরানের কৌশলগত স্থিতিস্থাপকতার উদাহরণ। যুদ্ধের জয় নির্ধারিত হয় কেবল অস্ত্র বা স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে নয়, বরং উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যমে। ইরানিরা তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সার্বভৌমত্ব অটুট রাখে।

পারস্য সভ্যতার উত্তরসূরি ইরান ২৫০০ বছরের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে। পারস্য সাম্রাজ্য, সাসানিয়ান রাজবংশ, ইসলামী ইরান ও মধ্যযুগীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির ধারার মাধ্যমে ইরান নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য, দর্শন ও সংস্কৃতিতে দৃঢ়। মার্কিন-ইসরায়েলের হামলা বা তল্পিবাহক সরকার বসানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে।

ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব থেকে অটল। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে পহলভি রাজবংশ উৎখাত, তল্পিবাহক সরকার প্রতিস্থাপন, ৫২ জন কূটনীতিক ৪৪৪ দিন জিম্মি—সবই ইরানের প্রতিরোধ ও আত্মপরিচয়ের ইতিহাসে প্রমাণ। ১৯৮০ সালের ইরাক-ইরান যুদ্ধ, ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের মধ্যেও দেশ মাথানত করেনি।

ইরান হিজবুল্লাহ, ইয়েমেন হুতি আন্দোলন ও সিরিয়ায় রেভল্যুশনারি গার্ডের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রেখেছে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ, স্টাক্সনেট সাইবার হামলা, পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা—সব কিছুর মধ্যেও ইরান প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা অর্জন করেছে।

২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানি হত্যার পর ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ দেখিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরেও মার্কিন-ইসরায়েলের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে ইরান শুধু প্রতিরোধ করেছে, তারা মাথানত করেনি।

ইরানিরা বলেন, “আমরা সেই জাতি, যারা কারবালার চেতনাকে রক্তে ধারণ করেছি। আমরা জানি কিভাবে মরতে হয় এবং মাথা উঁচু বাঁচতে হয়।” ইতিহাস প্রমাণ করে, সামরিক চাপ বা অবকাঠামো ধ্বংসের মধ্যেও ইরান কখনো মাথানত করেনি। তাদের সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস ও সার্বভৌমত্ব অটুট।

ইরানের এই ইতিহাস বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, যেসব জাতি আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অটল থাকে, তাদের সাময়িক ক্ষতি কখনো চূড়ান্ত পরাজয়ে রূপ নেনা—এটাই প্রকৃত বিজয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘না’ ভোটের পক্ষে জি এম কাদের গ্রেপ্তার ও জাতীয় পার্টি নিষিদ্

‘না’ ভোটের পক্ষে জি এম কাদের গ্রেপ্তার ও জাতীয় পার্টি নিষিদ্