লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সেচের পানি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের পূর্ব টিওরী গ্রামের মোল্লা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পূর্ব টিওরী গ্রামের একটি বিলে বর্ষা মৌসুমে প্রচুর পানি জমে থাকে। শুকনো মৌসুমে সেই জমে থাকা পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করেন এলাকার কৃষকেরা। ফসল উৎপাদনের জন্য ওই পানি সেচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে এই পানি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই বাড়ির দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
বিরোধে জড়িত দুই পক্ষ হলো মোল্লা বাড়ির মোহন মোল্লা ও রাসেলের পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে বিলের পানি কে আগে ব্যবহার করবে বা কীভাবে ব্যবহার করা হবে—এ নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। স্থানীয়দের মতে, এর আগেও বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
শুক্রবার বিকেলে আবারও পানি নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এতে মোট অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে মোহন মোল্লা বলেন, তার চাচাতো ভাই মাসুদ মোটর দিয়ে ক্ষেতে পানি দেওয়ার জন্য তিন হাজার টাকা নেন। এ কারণে বেলায়েত নিজেই মোটর বসিয়ে পানি নিতে চাইলে মজিদ তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে বাড়িতে বিল্লালসহ কয়েকজন তাদের গালাগাল করতে থাকেন।
তিনি বলেন, “আমি তাদের গালাগাল বন্ধ করতে বলি। কিন্তু তারা তা না শুনে আমাকে উল্টো গালাগাল করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি রাসেলকে একটি থাপ্পড় দিই। এরপরই তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।”
অন্যদিকে রাসেলের ভাই রাকিব হোসেন দাবি করেন, তার চাচা বেলায়েত কয়েকবার বিলে মোটর বসিয়ে পানি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই মোহন ও তাদের লোকজন তা বন্ধ করে দেন। ঘটনার দিনও একই ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রাকিব বলেন, “আমার চাচা আবার মোটর বসিয়ে পানি নিতে গেলে মজিদ বাধা দেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির সময় মোহন আমার ভাই রাসেলকে থাপ্পড় মারেন। এরপর তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।”
এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিলের পানি ব্যবহার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, উভয় পক্ষকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ আর ঘটবে না।
কসমিক ডেস্ক