চুয়াডাঙ্গা জেলায় বজ্রপাতে এক স্কুলছাত্রসহ দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (দুপুরে) জেলার জীবননগর ও দর্শনা এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই বজ্রপাত স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জীবননগর উপজেলার ঘোষনগর গ্রামের রেজাউল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন (২৫) এবং দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পারকৃষ্ণপুর গ্রামের তাজিমুল ইসলামের ছেলে আজিমুদ্দিন (১৫)। আজিমুদ্দিন স্থানীয় দর্শনা মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাসেল হোসেন বাড়ির পাশের একটি কৃষিজমিতে তামাকের খড়ি গোছানোর কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে আকাশে বিকট শব্দের সঙ্গে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে দর্শনা পারকৃষ্ণপুর গ্রামের বালিগাদার মাঠে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। কিশোর আজিমুদ্দিন তার বাবার জন্য খাবার নিয়ে মাঠে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বজ্রপাত হলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তার মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, বজ্রপাতে রাসেল নামের এক যুবকের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একইভাবে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসানও স্কুলছাত্র আজিমুদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যায়, যা গ্রামীণ এলাকায় বেশি প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে খোলা মাঠ, কৃষিজমি ও জলাশয়ের আশপাশে কাজ করার সময় মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সতর্ক করে আসছেন যে, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা জরুরি।
এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, চুয়াডাঙ্গার এই দুটি ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, বজ্রপাত একটি নীরব ঘাতক হিসেবে গ্রামীণ জনপদে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যথাযথ সতর্কতা ও সচেতনতা ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন।
কসমিক ডেস্ক