বরিশালের হিজলা উপজেলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৪টি অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ড্রেজারের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। অভিযানটি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হিজলা থানাধীন সওড়া সৈয়দখালি সংলগ্ন মেঘনা নদী এলাকায় পরিচালিত হয়।
অভিযানে কোস্ট গার্ড বেইস ভোলা, স্টেশন ইলিশা, কালীগঞ্জ ও হিজলার সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নদীর বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৪টি ড্রেজার শনাক্ত করা হয়। যদিও এসব ড্রেজারের কাগজপত্র জব্দ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা হয়নি।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালীন কয়েকটি ড্রেজার দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেছিল। তবে কোস্ট গার্ড সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করতে সক্ষম হন। পরে এই নথি জেলা প্রশাসক বরিশালের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয় যাতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। এর প্রভাবে ফসলি জমি, বসতভিটা ও স্থানীয় অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ছে। নদীর পানিসীমা ও জলে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য নিয়মিত নজরদারি ও যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী কিছু চক্র মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করছে। এর কারণে নদীপাড়ের জনজীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের এই অভিযানকে তারা কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে নদীতে নিয়মনীতি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
অভিযান প্রসঙ্গে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা বলেন, “নদী ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনজীবন সুরক্ষার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে নদী ভাঙনের পাশাপাশি স্থানীয় অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।”
অভিযানটি কেবলই নথি জব্দে সীমাবদ্ধ থাকলেও এটি পরবর্তী সময়ে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশা, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং নদীভাঙন ও পরিবেশ নষ্টের ঝুঁকি কমাবে।
মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের সুযোগ প্রদান করবে। এর মাধ্যমে নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষরা নিরাপদে তাদের ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষা করতে সক্ষম হবেন।
পরিবেশ ও নদী রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বরিশালের হিজলা এলাকায় এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে বলে জানানো হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের খুঁজে বের করা হবে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক