চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। ফ্রান্সের এভিয়াঁ শহরে চলমান তিন দিনব্যাপী জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন সংকট প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে স্থান পেয়েছে।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে জি-৭ নেতাদের একটি বিশেষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে। একই দিনে ইরান বিষয়েও একটি পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে আরব নেতারাও অংশ নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ইস্যুতে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ‘হয়তো আমরা কিছু একটা করতে পারি।’ তিনি জানান, তিনি জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—উভয়ের সঙ্গেই আলাদা আলাদাভাবে ফোনে কথা বলেছেন এবং আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় নেতারা জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরি করতে চান যাতে ইউক্রেনকে কোনোভাবেই রাশিয়ার শর্তে শান্তিচুক্তিতে যেতে বাধ্য না করা হয়। বরং রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়িয়ে কিয়েভের শর্তে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সম্মেলনের আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয় এবং কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জি-৭ নেতাদের কাছ থেকে ‘বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া’ প্রত্যাশা করেছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাশিয়ার হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে উল্লেখ করে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে, যা শীতকালে ইউক্রেনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
জি-৭ সম্মেলনে চলমান এই আলোচনা বিশ্ব রাজনীতিতে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
কসমিক ডেস্ক