ময়মনসিংহের ত্রিশালের ঐতিহাসিক দরিরামপুর ধরার খাল (বৈলর খাল) পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে তিনি এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ঐতিহাসিক এই খাল পুনরায় খননের কাজ শুরু হলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে এই খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর আবারও একই স্থানে নতুন করে খাল পুনঃখনন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই দরিরামপুর এলাকার খাল সংলগ্ন মঞ্চে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি স্থানীয় কৃষি ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা এই খাল পুনরায় খননের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালের নজরুল একাডেমি ডাক বাংলোতে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। সেখানে কিছু সময় বিশ্রামের পর তিনি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিনদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন।
এলাকাবাসীর অনেকে মনে করছেন, এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প শুধু একটি উন্নয়ন কার্যক্রম নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। এটি একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে ত্রিশালের পরিবেশ ও পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার কর্মসূচি টেকসই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা খাল পুনঃখননের মাধ্যমে স্থানীয় জলাবদ্ধতা কমানো এবং ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ত্রিশালের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটিকে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, যা এলাকার উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত।
কসমিক ডেস্ক