ছেলের মাদক টাকার পাচারে জড়িত, ৯০ বছর বয়সী মায়ের কারাদণ্ড The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ছেলের মাদক টাকার পাচারে জড়িত, ৯০ বছর বয়সী মায়ের কারাদণ্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 14, 2026 ইং
ছেলের মাদক টাকার পাচারে জড়িত, ৯০ বছর বয়সী মায়ের কারাদণ্ড ছবির ক্যাপশন:

দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর অর্থপাচার মামলায় ৯০ বছর বয়সী এক নারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার ছেলের মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ পাচারে সহায়তা করেছিলেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৯ দফায় প্রায় ৩৮৬ মিলিয়ন কোরিয়ান ওন গ্রহণ করেন, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ।

এই অর্থ তিনি নিজের কাছে রাখেননি; বরং ছেলের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন। আদালতের মতে, এই লেনদেন ছিল সুপরিকল্পিত এবং এর মাধ্যমে অবৈধ অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মামলাটি শুনানি করে ইনচন জেলা আদালত। বিচার চলাকালে উঠে আসে, ওই নারীর ছেলে ‘সং’ বর্তমানে কম্বোডিয়ায় কারাবন্দি। ২০২০ সালে মেথামফেটামিন পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি সেখানে সাজা ভোগ করছেন।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ওই নারী অন্তত পাঁচবার কম্বোডিয়া সফর করেছিলেন এবং তার ছেলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। ফলে বিচারকদের মতে, তিনি যে অর্থ লেনদেন করছিলেন তা অবৈধ—এই বিষয়টি তার অজানা থাকার কথা নয়।

রায়ে বিচারক উই ইউন-সুক উল্লেখ করেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড অবৈধ অর্থের উৎস শনাক্ত করাকে জটিল করে তোলে এবং মাদক ব্যবসার বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই অপরাধটি গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

তবে সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত কিছু মানবিক দিকও বিবেচনায় নিয়েছে। যেমন—নারীর বয়স অত্যন্ত বেশি এবং তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। এসব কারণেই তুলনামূলকভাবে সীমিত মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ কম্বোডিয়া থেকে তার ছেলে ‘সং’-কে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। এটি সফল হলে তার বিরুদ্ধে নিজ দেশে পুনরায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

একই ঘটনায় আরও বিস্তৃত তদন্তের তথ্যও সামনে এসেছে। সিউলভিত্তিক একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সং’ তার মেয়েকেও এই অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তার মেয়ে ৬০০ মিলিয়ন ওনের বেশি অবৈধ অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসা এবং অর্থপাচার কতটা বিস্তৃত এবং পারিবারিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও এটি পরিচালিত হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার এই রায় মাদক ও অর্থপাচারবিরোধী কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। বয়স বা পারিবারিক সম্পর্ক—কোনোটিই অপরাধের ক্ষেত্রে ছাড় পাবে না, এমন বার্তাই দিয়েছে আদালত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ফাত্তাহ-২, আটকানো প্রায় অসম্ভ

ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ফাত্তাহ-২, আটকানো প্রায় অসম্ভ