রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত আট বছর বয়সী শিশু রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি রামিসার অসুস্থ বাবা হান্নান মোল্লার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন হান্নান মোল্লাকে দেখতে যান তিনি। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রোগীর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
এই সফরে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন নেতা। তারা সবাই মিলে শোকাহত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানান এবং এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শন শেষে সেলিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, গত ১৯ মে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই দিনই জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানানোর পর দলের নেতারা রামিসার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আমিরের পক্ষ থেকে সমবেদনা বার্তা পৌঁছে দেন।
সেলিম উদ্দিন জানান, হজের ব্যস্ততার মধ্যেও ডা. শফিকুর রহমান নিয়মিতভাবে রামিসার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। দেশে ফিরে তিনি সরাসরি রামিসার বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে পরে জানতে পারেন, রামিসার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ খবর পেয়ে তিনি আর দেরি না করে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখেন।
হাসপাতালে অবস্থানকালে জামায়াত আমির রামিসার বাবার চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান পরিবারকে আশ্বাস দেন যে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে তারা একা নন। তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ সবাই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করছেন।
সবশেষে বলা যায়, রামিসার পরিবারের এই দুঃসময়ে বিভিন্ন মহল থেকে সহানুভূতি ও সমর্থন জানানো হলেও, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
কসমিক ডেস্ক