শুক্রবার (২৭ মার্চ) সৌদিতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্যবস্তু ছিল। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি চারটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকা অথবা উপসাগরীয় জলসীমায় গিয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে। এই হামলার সময় সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী জনসাধারণকে রক্ষা করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ঘটনার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি বা রক্ষাণীহানি না হলেও, রাজধানীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা ও কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি জারি করা চূড়ান্ত সময়সীমা ১০ দিন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরান সরকারের অনুরোধে জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংসের সময়সীমা ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তার দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় সাময়িক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনা চলছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করা।
এ অবস্থায় সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ও হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সামরিক প্রস্তুতি একে অপরের সঙ্গে সমান্তরালভাবে চলছে। সাম্প্রতিক ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
অতএব, সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হরমুজ প্রণালি উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি মিলিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
কসমিক ডেস্ক