নির্বাচন ও রমজানে চট্টগ্রামে বন্ধ অমর একুশে বইমেলা, মার্চে স্বাধীনতা মেলার পরিকল্পনা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্বাচন ও রমজানে চট্টগ্রামে বন্ধ অমর একুশে বইমেলা, মার্চে স্বাধীনতা মেলার পরিকল্পনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 27, 2026 ইং
নির্বাচন ও রমজানে চট্টগ্রামে বন্ধ অমর একুশে বইমেলা, মার্চে স্বাধীনতা মেলার পরিকল্পনা ছবির ক্যাপশন:

চট্টগ্রামে চলতি বছরে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে এই মেলা নগরীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও এবার জাতীয় নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান শুরুর সময়সূচি একে অপরের কাছাকাছি হওয়ায় আয়োজকরা মেলা আয়োজন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে ‘স্বাধীনতা বইমেলা’ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রামে বইমেলার আয়োজন করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই আয়োজন হয়ে আসছে। এতে সহযোগিতা করে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ। করোনাকালীন দুই বছর বিরতির পর গত বছর নগরীর জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে প্রায় ১৪০টি স্টল নিয়ে মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রকাশক, লেখক ও পাঠকদের সরব উপস্থিতি ছিল।

চসিকের সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং পরবর্তী সময়ে রমজান শুরু হওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত ছিল না। প্রকাশকরাও রমজান মাসে অংশগ্রহণের বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখান না। রমজানে সাধারণত বিকেল ও রাতকেন্দ্রিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে আসে, ফলে মেলায় প্রত্যাশিত পাঠক উপস্থিতি পাওয়া কঠিন হয়। স্টল ভাড়া, সাজসজ্জা, জনবল ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকাশকদের পক্ষ থেকেও রমজানের পর আয়োজনের প্রস্তাব আসে।

প্রকাশকদের মতে, বইমেলা শুধু বই বিক্রির জায়গা নয়; এটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও লেখক-পাঠক সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। রমজান মাসে এসব আয়োজন সীমিত হয়ে যায়। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মার্চের শেষ দিকে স্বাধীনতা দিবস ঘিরে আয়োজন করাই অধিকতর কার্যকর হবে বলে তারা মনে করছেন।

তবে ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নিয়মমাফিক অমর একুশে বইমেলা শুরু হওয়ায় চট্টগ্রামের অনেক লেখক ও পাঠক কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে যুক্ত এই আয়োজন ফেব্রুয়ারিতে না হওয়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য প্রত্যাশিত বার্তা নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রকাশ দাশগুপ্ত বলেন, একুশের বইমেলা কেবল একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি ভাষা ও সাহিত্যচর্চার প্রতীকী উৎসব। নিয়মিত সময়সূচিতে আয়োজন না হলে লেখক-পাঠকের মানসিক সংযোগে প্রভাব পড়তে পারে।

একইভাবে বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সহকারী অধ্যাপক ও অনুবাদক আলমগীর মোহাম্মদ মত প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে সময়ানুগ পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগামী বছরে যথাসময়ে অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের সক্ষমতা অর্জন করবে এবং স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে সম্ভাব্য বইমেলাও পাঠক-লেখকদের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

সব মিলিয়ে এবারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও আয়োজকরা পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এখন স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে সম্ভাব্য বইমেলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও প্রস্তুতির দিকেই নজর বইপ্রেমীদের।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব

লন্ডনে কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব