বাম্পার ফলনেও লোকসানের আশঙ্কা পেঁয়াজ চাষিদের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বাম্পার ফলনেও লোকসানের আশঙ্কা পেঁয়াজ চাষিদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 12, 2026 ইং
বাম্পার ফলনেও লোকসানের আশঙ্কা পেঁয়াজ চাষিদের ছবির ক্যাপশন:

দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। মাঠভর্তি পেঁয়াজ থাকলেও বাজারে দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না অধিকাংশ চাষি। ফলে লাভ তো দূরের কথা, অনেকেই লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। কিন্তু বাজারে পেঁয়াজের দাম কম থাকায় সেই খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশায় ঘরে মজুদ করে রাখছেন। তবে সংরক্ষণ সুবিধা সীমিত থাকায় দীর্ঘ সময় পেঁয়াজ ধরে রাখা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে শৈলকুপা উপজেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। কিন্তু বাজারে সরবরাহ বেশি হয়ে যাওয়ায় শুরুতেই দাম কমে গেছে।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচের নিচে নেমে এসেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর শৈলকুপা উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি হয়েছে।

কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে আকারভেদে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায়।

উপজেলার আওধা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, অনেক কষ্ট করে এ বছর পেঁয়াজ চাষ করেছেন। কিন্তু বাজারে এসে দেখছেন দাম খুবই কম। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে আগামী বছর অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

লাঙ্গলবাঁধ বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক রমজান আলী জানান, সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ খরচ মিলিয়ে প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু বাজারে এসে বিক্রি করতে হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে লোকসান গুনে সংসার চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে শৈলকুপার ভাটইবাজারের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন মোকামে গিয়ে ব্যবসায়ীদেরও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় লোকসান দিয়েই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

তার মতে, এ বছর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। তবে সামনে ঈদুল ফিতরের সময় পেঁয়াজের চাহিদা বাড়তে পারে। তখন বাজারে দাম কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনা অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় উৎপাদিত পণ্যের নির্ধারিত মূল্য এবং কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিমানবন্দরে জব্দ টাকার হিসাব মিলল, ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার

বিমানবন্দরে জব্দ টাকার হিসাব মিলল, ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার