আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দুর্নীতিতে ধরা পড়ার ভয় দেখিয়ে তারা আগে থেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
তিনি বলেছেন সাবেক উপদেষ্টা ফয়েজ তৈয়্যব একজন ম্যানেজারের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার ঋণ ছাড়ে ব্যাংক ম্যানেজারকে চাপ দিচ্ছিলেন। কোনো উপায় না দেখে ব্যাংক ম্যানেজার দুদকের দ্বারস্থ হলে প্রধান উপদেষ্টা দপ্তর ব্যবহারের মাধ্যমে অনুসন্ধান থামানোর চেষ্টা করা হয়। এছাড়া প্রকল্প পর্যায়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপ্রয়োজনীয় ক্রয় প্রমাণিত হলেও দুদকের অনুসন্ধান দীর্ঘদিন স্থগিত রাখা হয়।
তারেক আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া অনুসন্ধান এখনও শেষ হয়নি। বিশেষ করে বিটিসিএল-এর ৫জি উপযোগী অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পে অভিযোগ উঠেছে ৬৫ কোটি টাকার প্রকল্পে ৩২৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য বুয়েটের রিপোর্ট উপেক্ষা করে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়।
তিনি বলেন, ক্ষমতা পালাবদলের সময় সাবেক উপদেষ্টা, বর্তমান এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের দুর্নীতির প্রমাণও ধরা পড়ে। নাহিদ ইসলামের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব দায়িত্ব নিয়ে প্রকল্প পুনরায় চালু করেন। এরপর দুদকের অনুসন্ধান থামানোর জন্য সংস্থার চেয়ারম্যানকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি প্রেরণ করা হয়।
মোঃ তারেক অভিযোগ করেন, প্রকল্পের কার্যক্রম চলাকালে ফ্যাক্টরি টেস্ট ছাড়াই চীন থেকে মালপত্র আনা হয়। বিভিন্ন সহ-সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংক ম্যানেজারকে বারবার চাপ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রকল্পের পদে পদে অনিয়মের প্রমাণ থাকলেও অনুসন্ধান ধীরে চালানো হয়।
তারেক আরও বলেন, ফয়েজ তৈয়্যব সাহেব বিদেশে চলে গেছেন, দেশে থাকার সাহস করেননি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যিনি দুর্নীতির তথ্য জানেন, কেন তা প্রকাশ করেননি এবং কেন বিদেশে পালিয়ে গেছেন।
এই ফেসবুক লাইভে তারেক রহমান বিভিন্ন উপদেষ্টার প্রকল্পে অনিয়ম, ঋণ ছাড় এবং দুর্নীতির প্রমাণ তুলে ধরে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়গুলো সরকারি তদন্তে উঠে আসবে এবং প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক ও বর্তমান উপদেষ্টাদের নানা প্রকল্পে ব্যয় ও ঋণ ছাড়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। তিনি সরকার ও দুর্নীতি দমন সংস্থাকে বিষয়গুলো নজরে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক