কক্সবাজারে এক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাজেট ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। তিনি দাবি করেন, জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এবারের বাজেটে নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে, বিশেষ করে মদ ও সিগারেটের মতো পণ্যের ওপর। তাঁর মতে, এসব সিদ্ধান্ত সমাজের সার্বিক কল্যাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিরোধীদল এই বাজেটকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধীদল বাজেটের গঠনমূলক দিকগুলো উপেক্ষা করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমালোচনার পথে হাঁটছে। তাঁর ভাষায়, “যে বাজেটে জনগণের উপকার হয়, কর কাঠামো জনস্বার্থে পরিবর্তন করা হয়, সেই বাজেট নিয়েও বিরোধীরা সমালোচনা করছে।” তিনি মনে করেন, এই ধরনের অবস্থান জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হতে পারে।
কর্মসূচিতে বক্তব্যের সময় তিনি দেশের উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষি খাতের বিষয়েও কথা বলেন। তারেক রহমান জানান, কৃষকদের সহায়তায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতি উপজেলায় হাজার হাজার কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, এটি কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হবে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নত করার জন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। অতীতে যারা উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ দশক আগে যেসব খাল খনন প্রকল্প শুরু হয়েছিল, সেগুলোর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে পুনঃখনন কাজ চলছে, যা স্থানীয় কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তারেক রহমানের দাবি অনুযায়ী, পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে, ১২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং হাজার হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাবে। তিনি এটিকে কৃষি উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সার্বিকভাবে তাঁর বক্তব্যে বাজেট, করনীতি, কৃষি উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক অবস্থান—সবকিছুই উঠে আসে। তিনি মনে করেন, সরকারের নেওয়া নীতিগুলো জনকল্যাণমূলক হলেও বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করছে না। ফলে বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক