আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রী, মোবাইল ফোন, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক ছাড়ের বড় ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে বলে জানা গেছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার বিভিন্ন খাতে কর ও ভ্যাট হ্রাসের পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে চাল, গম, ভোজ্যতেলসহ ৬০টির বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব থাকতে পারে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারও করা হতে পারে।
অন্যদিকে, বিলাসী পণ্য, কিছু আমদানি পণ্য, রড ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব আসতে পারে। এতে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যে সম্পূরক শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে রড, অ্যালকোহল, উচ্চমূল্যের আমদানি পণ্য ও বিলাসী প্রসাধনীতে নতুন ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে।
চিকিৎসা খাতে কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার ও হার্টের চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর কর প্রত্যাহার বা হ্রাসের প্রস্তাব আসতে পারে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে।
মোবাইল ফোন ও টেলিযোগাযোগ খাতে করছাড়ের ফলে স্থানীয় উৎপাদন খরচ কমবে এবং সিমকার্ডসহ বিভিন্ন সেবার মূল্য হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর রেয়াত বাড়ানো হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তনের ফলে একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা কমবে, অন্যদিকে বিলাসী পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে বাজারে ভোক্তা আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, কর ছাড়ের ফলে রাজস্ব আয় কমে গেলে সরকারের ঋণ নির্ভরতা বাড়তে পারে। তাই রাজস্ব সংস্কার ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেটকে কেন্দ্র করে দেশের ভোক্তা বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক