নেপালি ভাষার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দ্য সাইলেন্ট ইকো সম্প্রতি ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নাউনেস এশিয়া-তে মুক্তি পেয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ফ্রান্সের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিনামূল্যে দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে নেপালি সিনেমার ভিন্নধর্মী উপস্থাপন তুলে ধরতেই এমন উন্মুক্ত প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুপি বাঘা প্রোডাকশনস লিমিটেডের প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে নীরবতার আবহে অনুভূতির সূক্ষ্ম প্রকাশ এবং প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে স্বপ্নপূরণের যাত্রাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সংলাপনির্ভর গল্প বলার পরিবর্তে দৃশ্য, আবহ এবং চরিত্রের অভিব্যক্তির মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনই এই চলচ্চিত্রের মূল শক্তি।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নেপালের দুর্গম অঞ্চল মুস্তাংয়ে বেড়ে ওঠা চার কিশোর-কিশোরী। পাহাড়ঘেরা পরিবেশ, নির্জনতা এবং সীমিত সুযোগের মাঝেও তাদের জীবনে রয়েছে স্বপ্ন, আশা ও এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। বাস্তবতার কঠিন দেয়াল অতিক্রম করে নিজেদের মতো করে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সংগ্রামই ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এই চলচ্চিত্রে। নির্মাতা অত্যন্ত সংযত ভঙ্গিতে চরিত্রগুলোর ভেতরের অনুভূতি তুলে ধরেছেন, যা দর্শকের মনে দীর্ঘ সময় ধরে রেশ রেখে যায়।
চলচ্চিত্রটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এতে অভিনয় করা চার শিশুশিল্পীর কেউই পেশাদার অভিনয়শিল্পী নন। প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, পোখারা অঞ্চলের আশপাশের শরণার্থীশিবির ও বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রায় ১০০ শিশুর অডিশন নেওয়া হয়। দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত এই চার কিশোর-কিশোরীই চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রে অভিনয় করেন। তাদের স্বাভাবিক উপস্থিতি ও বাস্তব অভিব্যক্তি গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
২০২১ সালে নির্মিত ‘দ্য সাইলেন্ট ইকো’ মুক্তির পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানায়, চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে প্রদর্শিত হয়েছে। পাশাপাশি এটি ৮০টির বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এসব উৎসব থেকে ছবিটি পেয়েছে মোট ১৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার, যা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে এর সাফল্যকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।
চলচ্চিত্রটির নির্মাতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিচালক সুমন সেন। সংবেদনশীল গল্প বলার ভঙ্গি ও ভিজ্যুয়াল ন্যারেটিভের জন্য তিনি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘একা’ নির্মাণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে।
নেপালি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ‘দ্য সাইলেন্ট ইকো’ কেবল একটি গল্পই নয়, বরং এটি একটি অভিজ্ঞতা। নীরবতার ভেতর দিয়ে অনুভূতির ভাষা খুঁজে নেওয়া এই চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে নেপালের প্রান্তিক জীবনের এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিনামূল্যে অনলাইনে মুক্তির ফলে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছাবে এই গল্প—এমন প্রত্যাশাই নির্মাতা ও প্রযোজনা সংশ্লিষ্টদের।