হাদী হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে হামলা, জকসুর প্রতিবাদ মিছিল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হাদী হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে হামলা, জকসুর প্রতিবাদ মিছিল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 7, 2026 ইং
হাদী হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে হামলা, জকসুর প্রতিবাদ মিছিল ছবির ক্যাপশন:

হাদী হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা কর্মসূচিতে পুলিশের গুলি ও হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে রায় সাহেব মোড় প্রদক্ষিণ করে বিশ্বজিৎ চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত এক প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস জাস্টিস’, ‘পুলিশ না বিচার, বিচার বিচার’, ‘এক হাদী কবরে, লক্ষ হাদী ঘরে ঘরে’, ‘এই মুহূর্তে দরকার, পুলিশ লীগের সংস্কার’সহ নানা স্লোগান দেন। স্লোগানগুলোতে হাদী হত্যার বিচার এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রতিবাদী সমাবেশে বক্তব্য দেন জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, লাল জুলাইয়ের অন্যতম প্রতীক হলো ইনকিলাব মঞ্চ। সেই ইনকিলাব মঞ্চের ওপর হামলা মানে এই সরকার জনগণের পক্ষে নেই। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের বর্তমান ভূমিকা দমনমূলক এবং এই পেটুয়া বাহিনীকে অবিলম্বে সংস্কার করতে হবে।

জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ফাতেমা অওরিন বলেন, হাদী হত্যার বিচার চাওয়াই ছিল ইনকিলাব মঞ্চের একমাত্র দাবি। সেই ন্যায্য দাবিতে মাঠে নামার কারণে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা হাদী হত্যার বিচার চাই। একই সঙ্গে পুলিশ লীগের সংস্কার করতে হবে।”

জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ তার বক্তব্যে বলেন, আজকের এই হামলার মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের একটি চক্রান্ত স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করবে। এরপর পুলিশ লীগের সংস্কার করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশে জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যখন প্রকাশ্যে অপকর্ম করে লীগের কর্মীরা, তখন পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। অথচ ন্যায্য দাবি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা মাঠে নামলে পুলিশ কঠোর হয়ে ওঠে। তিনি সবাইকে সজাগ থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেতন দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি হামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি। তারা বলেন, হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন দমন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যাবে না।

সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের ওপর হামলা শুধু একটি সংগঠনের ওপর নয়, বরং ন্যায়বিচার চাওয়া সকল মানুষের ওপর আঘাত। তারা দাবি করেন, অবিলম্বে হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

প্রতিবাদী কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। জকসু নেতারা জানান, ভবিষ্যতেও ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে তারা সোচ্চার থাকবেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জামায়াত–চরমোনাই–এনসিপি জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে বাড়ছে অবিশ্বাস

জামায়াত–চরমোনাই–এনসিপি জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে বাড়ছে অবিশ্বাস