জ্বালানি নিঃসরণে জটিলতা, চাঁদ মিশনে বাধার মুখে নাসা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জ্বালানি নিঃসরণে জটিলতা, চাঁদ মিশনে বাধার মুখে নাসা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 20, 2026 ইং
জ্বালানি নিঃসরণে জটিলতা, চাঁদ মিশনে বাধার মুখে নাসা ছবির ক্যাপশন:

চাঁদে মানুষ পাঠানোর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত আর্টেমিস–২ মিশনকে ঘিরে সম্প্রতি নতুন একটি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। রকেটের জ্বালানি সংক্রান্ত পরীক্ষায় তরল হাইড্রোজেন নিঃসরণের সমস্যা ধরা পড়ায় মিশনের প্রস্তুতিতে বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে নাসাকে।

আর্টেমিস–২ মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো চারজন নভোচারীকে নিয়ে চাঁদের চারপাশ ঘুরে প্রায় ১০ দিনের একটি মানববাহী অভিযান পরিচালনা করা। এটি হবে বহু বছর পর চাঁদের পথে মানুষের প্রত্যাবর্তনের একটি বড় ধাপ। তবে সম্প্রতি পরিচালিত এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় দেখা গেছে, রকেটের একটি সংযোগস্থল থেকে অতি-শীতল তরল হাইড্রোজেন বের হয়ে যাচ্ছে।

নাসার প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এই রকেটে প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তরল হাইড্রোজেন। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও এর অণুগুলো খুব ছোট হওয়ায় সামান্য ফাঁক থাকলেই বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পরীক্ষার সময় সেই সমস্যাটিই আবারও সামনে এসেছে। প্রকৌশলীরা স্বীকার করেছেন, এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। এর আগে ২০২২ সালেও একই ধরনের হাইড্রোজেন লিকের কারণে একাধিকবার উৎক্ষেপণ পেছাতে হয়েছিল।

ঝুঁকি থাকার পরও নাসা তরল হাইড্রোজেন ব্যবহার করে থাকে, কারণ এটি রকেট বিজ্ঞানে অত্যন্ত কার্যকর একটি জ্বালানি। তুলনামূলকভাবে কম জ্বালানি ব্যবহার করেই অনেক বেশি ওজন মহাকাশে পাঠানো সম্ভব হয়। ফলে ভারী মহাকাশযান ও নভোচারী বহনের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন একটি বড় সুবিধা দেয়। নাসার মতে, এই উচ্চ দক্ষতার কারণেই হাইড্রোজেনের ঝুঁকি নিয়েও তারা এটি ব্যবহার করে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস–২ মিশনের রকেটে পুরনো স্পেস শাটল কর্মসূচির বেশ কিছু যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি নতুনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরনো কর্মী কাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে গিয়েই নাসাকে এই পথ বেছে নিতে হয়েছে। এর ফলে আধুনিক নকশার পাশাপাশি পুরনো প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাও রকেটটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

নাসা নিজেও স্বীকার করেছে, এই রকেটটি এখনো পুরোপুরি ‘অপারেশনাল’ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং এটি এখনো একটি পরীক্ষামূলক ধাপে রয়েছে। প্রতিটি বড় পরীক্ষার মাধ্যমেই রকেটটির দুর্বলতা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং ধাপে ধাপে তা সংশোধনের চেষ্টা চলছে। হাইড্রোজেন লিকের ঘটনাটিও সেই পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ বলে মনে করছেন নাসার প্রকৌশলীরা।

এই সমস্যার সমাধানে নাসা ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। নিঃসরণ হওয়া জায়গাগুলোর সিল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং বিশেষ কৌশলে জ্বালানি ভরার প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। নাসার প্রশাসক জানিয়েছেন, নতুন করে পরীক্ষা চালানোর পর হাইড্রোজেন নিঃসরণের হার আগের তুলনায় কমে এসেছে। তাদের দাবি, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা এই ধরনের লিক শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে দক্ষ।

নাসার কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, মহাকাশ অভিযানে শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত ব্যবস্থা প্রায় অসম্ভব। তবে সম্ভাব্য সব ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে গ্রহণযোগ্য মাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। আর্টেমিস–২ মিশনের ক্ষেত্রেও প্রতিটি সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতের চাঁদ অভিযানে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্টেমিস কর্মসূচির সাফল্য শুধু একটি মিশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী উপস্থিতি এবং মঙ্গলসহ আরও দূরবর্তী গ্রহে মানুষের যাত্রার ভিত্তি তৈরি করবে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেগুলো সমাধান করাই দীর্ঘমেয়াদে নাসার জন্য লাভজনক হবে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি নিঃসরণ সংক্রান্ত সমস্যায় আর্টেমিস–২ মিশন কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও নাসা এটিকে প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি চিহ্নিত করে সমাধান করার মাধ্যমেই চাঁদে মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পথ আরও সুদৃঢ় হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন মহাকাশ গবেষণা সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কারচুপি না হলে প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান—ফরিদপুরে শামা

কারচুপি না হলে প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান—ফরিদপুরে শামা