নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণার সময় শেষ হওয়ার পরও ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আবু নাসের মো. মাহবুবার রহমানের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পীরগাছা উপজেলার দেউতি বাজার এলাকায় জাপা প্রার্থীর কয়েকজন কর্মী ভোটারদের কাছে লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর মহানগর কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন। তিনি জাপা কর্মীদের ভোট চাওয়ার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন।
মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির বাইরে ও ভেতরে কয়েকজন জাপা কর্মী লাঙ্গল প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করছেন এবং ভোট চাইছেন। এ সময় আলমগীর নয়ন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট চাওয়া নিষিদ্ধ কি না—সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে সেখানে উপস্থিত একজন তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারায় ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
এ ঘটনায় আলমগীর নয়ন অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কর্মীরা ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ ও অর্থ প্রদানের চেষ্টা করছেন—এমন খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। ভিডিও ধারণ শুরু করলে কর্মীরা অর্থ লুকিয়ে ফেলেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টি প্রার্থী প্রশাসনকে উপেক্ষা করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, অর্থের বিনিময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি। এসব অনিয়ম প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের মো. মাহবুবার রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, এনসিপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগের পর জাতীয় পার্টি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্টকে কড়া সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির কাছে পাঠানো হবে।
কসমিক ডেস্ক