পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী তার বাবার প্রতি আবেগঘন বার্তা দিয়ে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। শনিবার দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসের এক ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্ট্যাটাসে মাসুদ সাঈদী দাবি করেছেন, তার পিতা ইসলামী বক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছিল, তা ন্যায়বিচার বহির্ভূত ছিল। তিনি উল্লেখ করেছেন, রায়ের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বহু মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা তিনি নিহতদের শহীদ হিসেবে স্মরণ করেন।
মাসুদ সাঈদী তার স্ট্যাটাসে বলেন, “আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি। জাতির ইতিহাসে এই দিন কলঙ্কিত। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মিথ্যা অভিযোগ ও জাল সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আমার পিতাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল। দেশবাসী জানত তিনি নির্দোষ। তখন সচেতন জনতা ঘরে বসে থাকেনি, লাখ কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ওই আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠিয়াল ও গুলিতে সারাদেশে ২৩৫ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। মাসুদ সাঈদী লিখেছেন, “একজন ব্যক্তির প্রতি মানুষের ভালোবাসায় এত প্রাণহানি পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। মানুষ প্রমাণ করেছে, যুদ্ধাপরাধ নয়, বরং কোরআনের দাওয়াত ছড়িয়ে দেয়াই আমার পিতার অপরাধ।”
স্ট্যাটাসের একাংশে তিনি নিহতদের জন্য দোয়া করে বলেন, মহান আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতের অতিথি হিসেবে কবুল করুন এবং তাদের সকল ভুল ত্রুটি মাফ করুন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তৎকালীন সরকার ও ক্ষমতাসীন দল পরিকল্পিতভাবে তার পিতাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর দয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বরং তার জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী বহুগুণ বেড়ে গেছে।
মাসুদ সাঈদী শেষবার্তায় লিখেছেন, “ইয়া রব! কোরআনের পাখি শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইনকে জান্নাতের সবুজ পাখি হিসেবে কবুল করুন। শহীদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশকে ইসলামের জন্য কবুল করুন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসুদ সাঈদীর এই স্ট্যাটাস নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল। পরে আপিল বিভাগ সেই রায় পরিবর্তন করে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করে।
মাসুদ সাঈদীর স্ট্যাটাসে ব্যক্তিগত আবেগ, বাবার প্রতি শ্রদ্ধা এবং দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার স্মরণ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই বার্তা দিয়ে জাতির মনকে প্রভাবিত করেছেন এবং নিহতদের স্মরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক