পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকলে সম্পত্তি বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রাইব্যুনাল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকলে সম্পত্তি বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রাইব্যুনাল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 8, 2026 ইং
পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকলে সম্পত্তি বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রাইব্যুনাল ছবির ক্যাপশন:
ad728

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার ও উত্তরাধিকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি স্বীকৃতি এনে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৬ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ন্যূনতম পাঁচ বছর ধরে গুম অবস্থায় থাকলে এবং এই সময়ের মধ্যে জীবিত ফিরে না এলে, সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল তাঁর সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য বলে ঘোষণা দিতে পারবে।

গতকাল মঙ্গলবার অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এই সংশোধিত অধ্যাদেশের অনুমোদন দেয়।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবে। এ বিধানকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিরসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

সংশোধিত অধ্যাদেশে গুম সংক্রান্ত মামলার বিচারপ্রক্রিয়াও আরও সুস্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য গুম সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে ভুক্তভোগীরা চাইলে নিজ উদ্যোগেও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন।

এ ছাড়া কমিশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা কমিশন না থাকলে সরকার সরাসরি পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবে। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল জেলা বা বিভাগের সদর দপ্তরের পাবলিক প্রসিকিউটর কিংবা অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই সংশোধনের ফলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে সম্পত্তি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর হওয়ায় পরিবারগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কিছুটা নিশ্চিত হবে।

এদিকে একই দিনে অন্তর্বর্তী সরকার মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশও জারি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার একযোগে একাধিক অধ্যাদেশ জারি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের এই সংশোধন শুধু বিচারিক প্রক্রিয়াই নয়, বরং গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের আইনি ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আলাদা থাকছেন তাহসান-রোজা, সংসার ভাঙার ইঙ্গিত দিলেন তাহসান

আলাদা থাকছেন তাহসান-রোজা, সংসার ভাঙার ইঙ্গিত দিলেন তাহসান