শেরপুর জেলা–র সদর উপজেলায় বিএনপির এক সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া-বালুরঘাট এলাকার কান্দাপাড়া-নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
আহত গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়া (৩৫) বর্তমানে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার মাথা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাসেল মিয়া শেরপুর-1 (সদর) আসনে হেরুয়া বালুরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেল মিয়া বলেন, “আমি বিএনপি করি এবং ধানের শীষের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম। এ কারণেই আমার ওপর জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় জামায়াত সমর্থক কেরামত, জামাল, সোহেল, মনির ও তার ভাইসহ ১২-১৩ জন তার ওপর হামলায় অংশ নেন।
রাসেলের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছিলেন। একপর্যায়ে তারা ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দেন। এরপর আশপাশে থাকা আরও কয়েকজন মিলে তার ওপর হামলা চালান। প্রাণ বাঁচাতে তিনি একটি দোকানে আশ্রয় নিলেও সেখানে গিয়েও তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ঘটনাটি এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানা–র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আহত রাসেল মিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, শেরপুরের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।