বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলছে ব্যাপক উন্মাদনা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে দর্শকরা যেমন মাঠে বা বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করছেন, তেমনি সামাজিকভাবে বিভিন্ন আয়োজনও দেখা যাচ্ছে। তবে এই উন্মাদনা এবার মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মজীবীদের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো স্থানীয় সময়ের পার্থক্যের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সাধারণত রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে সম্প্রচার হচ্ছে। ফলে নিয়মিত কাজের সময়ের সঙ্গে খেলা দেখার সময়সূচির বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে উঠে এসেছে একটি সাম্প্রতিক জরিপে। দুবাইভিত্তিক নিয়োগ সংস্থা গালফট্যালেন্টের করা এই জরিপে বলা হয়েছে, সময়ের পার্থক্য কর্মজীবীদের দৈনন্দিন রুটিনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।
জরিপ অনুযায়ী, এই অঞ্চলের প্রায় ৮৪ শতাংশ পেশাজীবী অন্তত কয়েকটি ম্যাচ সরাসরি দেখার পরিকল্পনা করছেন। নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই ফুটবল নিয়ে সমান আগ্রহ দেখা গেছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক জানিয়েছেন, তারা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো দেখার জন্য রাতে জেগে থাকবেন। আরেকটি বড় অংশ শুধু সন্ধ্যার ম্যাচগুলো দেখার পরিকল্পনা করছেন, যাতে কাজের ওপর প্রভাব কিছুটা কমানো যায়। কিছু কর্মী আবার পরদিন রিপ্লে দেখে খেলা উপভোগ করার কথাও জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক কোম্পানি ইতিমধ্যেই নমনীয় কর্মনীতি গ্রহণ করছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ম্যানেজার তাদের কর্মীদের জন্য দেরিতে কাজ শুরু করার অনুমতি দিচ্ছেন বা কাজের সময় কিছুটা শিথিল করেছেন।
কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে, যাতে তারা কাজ ও বিনোদনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারে। আবার কিছু কোম্পানি হাজিরা ও ছুটির নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে, যাতে উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে।
এছাড়া অনেক অফিস বিশ্বকাপকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে অফিসে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করছে। কিছু কোম্পানি আবার অফিস স্পেসকে ফুটবল থিমে সাজাচ্ছে এবং কর্মীদের জন্য ম্যাচ স্কোর অনুমান প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।
গালফট্যালেন্টের জরিপটি বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট নয়টি দেশের প্রায় ১,২০০ জন কর্মজীবীর ওপর পরিচালিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপ বা বড় ক্রীড়া ইভেন্টগুলো কর্মক্ষেত্রে সাময়িকভাবে উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেললেও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ ও বিনোদনের মধ্যে ভারসাম্য আনা সম্ভব।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্বকাপ মধ্যপ্রাচ্যের কর্মজীবীদের জন্য যেমন আনন্দের উৎস, তেমনি কর্মপরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে, যা কোম্পানিগুলোকে নতুন কর্মনীতি গ্রহণে বাধ্য করছে।
কসমিক ডেস্ক