বাগেরহাটে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগে যুবলীগ নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গভীর রাতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় নগদ অর্থ, মদ্যপান সামগ্রী, মোবাইল ফোন ও চেক বই জব্দ করার তথ্য জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
শুক্রবার দিনগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বাগেরহাটের নাগেরবাজার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা নাগেরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা মধুসূদন ধামের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে আটক করে। অভিযান চলাকালে ওই বাসা থেকে ৮ বোতল বিয়ার, নগদ ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩০ টাকা, পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং আটটি চেক বই জব্দ করা হয়।
আটককৃতরা হলেন জেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দোলন মোল্লা, ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা মধুসূদন ধাম এবং আওয়ামী লীগ কর্মী মো. মাসুম বিল্লাহ। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাত পদাতিক ডিভিশনের অধীন ২৮ পদাতিক ব্রিগেডের ২৩ আর-ই ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা নির্বাচন ঘিরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মধুসূদন ধাম আসন্ন নির্বাচনে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে, আটক যুবলীগ নেতা দোলন মোল্লার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন যাচাই করে বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে বাগেরহাট মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার সূত্র ধরেই তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। অভিযানের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাগেরহাট মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নাশকতা বা সহিংসতার যেকোনো পরিকল্পনা আগেই প্রতিহত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযান নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে, বাগেরহাটে সেনাবাহিনীর এই অভিযান নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলের দিকে এখন নজর স্থানীয়দের।