ঈদুল ফিতরের সময়ে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করার জন্য বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ছুটি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়বে। তবে স্বল্পসময়ে এতবেশি মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা বর্তমান অবকাঠামোয় এবং গণপরিবহনে অত্যন্ত কঠিন।
তিনি জানান, গণপরিবহন সংকট, স্টেশন ও সড়কের সীমিত অবকাঠামোসহ নানা কারণে মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। এ কারণে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়, অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায় এবং যাত্রাপ্রক্রিয়ায় অসহনীয় চাপ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিবারই ঈদে যাত্রীদের জন্য এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। স্বল্প সময়ের মধ্যে সব মানুষকে নিরাপদে গ্রামে পৌঁছে দেওয়া যায় না।”
মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, এবারের ঈদে ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মোট ৯ দিনের ছুটি রয়েছে। তবে শুধুমাত্র সরকার যদি ১৮ মার্চ একদিন ছুটি বৃদ্ধি করে তা নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করে, তাহলে ঘরমুখো যাত্রীরা ধাপে ধাপে তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতে পারবে। এতে গণপরিবহনে চাপ কমবে, মানুষের ভোগান্তি হ্রাস পাবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও কমে যাবে।
তিনি বলেন, “ছুটি বাড়ানো মানে শুধু অফিস কর্মচারীদের সুবিধা নয়, এটি দেশের যাত্রী সমাজের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধাপে ধাপে যাত্রা করলে বাস ও ট্রেনগুলোও নিরাপদভাবে পরিচালিত করা সম্ভব হবে। মানুষ সুবিধা পাবে, দুর্ঘটনা কমবে এবং ঈদযাত্রা হবে স্বাচ্ছন্দ্যময়।”
যাত্রী কল্যাণ সমিতি আরও উল্লেখ করেছে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিশেষ করে শহর ও গ্রামসংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এতে যাত্রীদের সময় ও খরচ বাঁচবে, যাত্রাপ্রক্রিয়া সহজ হবে এবং সড়কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।
মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “যাত্রীদের স্বস্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব। সরকার যদি মাত্র একদিনের অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করে, তাহলে মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এটি দেশের জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।”
সংক্ষেপে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করার জন্য একদিনের ছুটি বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সমিতি আশা করছে, সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ ও সুবিধাজনক হবে।
কসমিক ডেস্ক