মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতি সত্ত্বেও পরিকল্পনা অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এমনটাই জানিয়েছেন ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হেইমো শিরগি।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ব্রডকাস্ট সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
‘বিশ্বকাপ বিশাল আয়োজন’
হেইমো শিরগি বলেন, বিশ্বকাপ একটি বিশাল আয়োজন এবং এটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।
তার ভাষায়,
“একটা সময়ে আমরা সমাধান পেয়ে যাব এবং বিশ্বকাপ অবশ্যই হবে। বিশ্বকাপ অনেক বড় আয়োজন এবং আমরা আশা করি যারা যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা সবাই এতে অংশ নেবে।”
ইরান ইস্যুতে অনিশ্চয়তা
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় দেশটির পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শিরগি জানান, ফিফা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ফিফা
ফিফার এই কর্মকর্তা জানান, সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, ফিফা আন্তর্জাতিক ও ফেডারেল অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিদিনের ঘটনাবলি মূল্যায়ন করছে।
এছাড়া ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে ফিফা।
তবে দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি
আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ।
এই আসরে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই।
ইরানের গ্রুপ
এশিয়ান ফুটবল কনফারেন্সের বাছাইপর্ব পেরিয়ে ইরান ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
গ্রুপ পর্বে তারা রয়েছে ‘জি’ গ্রুপে।
এই গ্রুপে ইরানের প্রতিপক্ষ—
-
বেলজিয়াম
-
নেদারল্যান্ডস
-
মিশর
ইরানের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলসে এবং একটি ম্যাচ হবে সিয়াটলে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন,
“আমি সত্যিই পরোয়া করি না। ইরান এখন শোচনীয়ভাবে পরাজিত দেশ। তাদের সব শক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
তবে এসব রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও ফিফা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বিশ্বকাপের আয়োজন নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই সম্পন্ন হবে এবং যোগ্যতা অর্জনকারী সব দলই অংশ নিতে পারবে।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরকে ঘিরে প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে জোরেশোরে শুরু হয়েছে আয়োজক দেশগুলোতে।
কসমিক ডেস্ক