চল্লিশ বছর পার করলেই নারীদের নিয়ে সমাজে নানা ধরনের মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত উপদেশ শোনা যায়। ‘বুড়ি হয়ে গেছ’, ‘এই বয়সে এত সাজগোজ কেন’ কিংবা ‘এখন আর এসব মানায় না’—এমন নানা মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয় অনেক নারীকে। এই বয়সবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে এবার সরব হয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে তিনি সমাজে প্রচলিত বয়স নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি তুলে ধরেন, বয়স বাড়া মানেই জীবনের রঙ ফিকে হয়ে যাওয়া নয়; বরং এটি অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে জানার একটি অধ্যায়।
পোস্টের শুরুতেই অপরাজিতা আঢ্য লিখেছেন, চল্লিশে পৌঁছালেই অনেকেই বলে ওঠেন, ‘উফ! বুড়ি হয়ে গেলে!’ এই মন্তব্যের জবাবে তিনি প্রশ্ন রাখেন, বয়স কি এমন কোনো বিষয়, যা ইচ্ছা করলেই থামিয়ে রাখা যায়? তার ভাষায়, চুলে কয়েকটি সাদা রং বা মুখে কয়েকটি ভাঁজ পড়লেই একজন মানুষ পুরোনো হয়ে যান না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বয়স বাড়লেও একজন নারীর দায়িত্ব কমে যায় না। সন্তান, পরিবার, সংসার কিংবা বাবা-মাকে ঘিরে দায়িত্ব ও চিন্তা আগের মতোই থেকে যায়। পরিবর্তন ঘটে মূলত সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে, যেখানে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের জীবনযাপন নিয়েও নানা মন্তব্য শুরু হয়।
অভিনেত্রী তার পোস্টে সমাজের প্রচলিত কিছু প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন। যেমন—‘এই বয়সে লাল শাড়ি কেন?’, ‘এখনও এত সাজগোজ কেন?’, ‘এই বয়সে নাচ বা প্রেমের গান মানায়?’—এসব মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বয়স কোনো সীমারেখা নয়, যা একজন মানুষের পছন্দ, আনন্দ বা আত্মপ্রকাশকে আটকে রাখতে পারে।
বাস্তব জীবনের নানা দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বয়স বাড়লেও সংসারের খরচ কমে না, ইএমআই বন্ধ হয় না কিংবা প্রতিদিনের কাজও নিজে থেকে সম্পন্ন হয় না। বরং সময়ের সঙ্গে একজন মানুষ আরও অভিজ্ঞ হন, জীবনের গভীরতা আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করেন এবং নিজেকে ভালোবাসতে শেখেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অপরাজিতা লিখেছেন, কুড়িতে তিনি ছিলেন কুঁড়ি, তিরিশে নদী, আর চল্লিশে এসে তিনি নিজেকে সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, এই বয়সে মানুষের অভিজ্ঞতা, গভীরতা, ঝড় মোকাবিলার শক্তি এবং নিজের মতো করে বাঁচার সাহস আরও পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পোস্টের শেষাংশে অভিনেত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, বয়স বাড়া কোনো অপরাধ নয়। বরং একজন নারীর বয়স দেখে তার স্বপ্ন, আনন্দ কিংবা রঙিন মনকে অবসর দিয়ে দেওয়াই প্রকৃত ভুল। তিনি নিজেকে ‘বুড়ি’ নয়, ‘পরিণত’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং বলেছেন, তিনি শেষ হয়ে যাননি; বরং আরও পরিপূর্ণ হয়েছেন।
সবশেষে লাল শাড়ি, লিপস্টিক এবং হাসিমাখা ছবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এগুলো বয়সকে অস্বীকার করার চেষ্টা নয়; বরং জীবনকে উদযাপন করারই প্রকাশ। তার ভাষায়, নারী কখনো বুড়ো হন না—প্রতিটি বছর তাকে আরও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার এক একটি গল্পে পরিণত করে।
অপরাজিতা আঢ্যের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার এই বার্তাকে নারীর আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস এবং বয়সকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার শক্তিশালী আহ্বান হিসেবে দেখছেন।
কসমিক ডেস্ক