আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে উপকূলের ৬৬টি ভোটকেন্দ্রে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্রে ১০ প্লাটুন কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়েন থাকবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে গত ১৮ জানুয়ারি থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৮ দিনব্যাপী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী দুর্গম এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দায়িত্ব পালন করছে। এই সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন খুলনা ও পিরোজপুর জেলার কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। খুলনা-১, খুলনা-৬ এবং পিরোজপুর-৩ আসনের দাকোপ, কয়রা ও মঠবাড়িয়া উপজেলার নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকাগুলোতে এই ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এসব এলাকার ১৬টি ইউনিয়নের মোট ৬৬টি ভোটকেন্দ্রে ১০ প্লাটুনে ৫৮৮ জন কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা যেন না ঘটে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, একটি জবাবদিহিমূলক, জনকল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন করেছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোস্ট গার্ড প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জনগণের জানমালসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাবে।
এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে কোস্ট গার্ড সর্বদা তৎপর থাকবে বলেও তিনি জানান।
সব মিলিয়ে, উপকূলীয় অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ড্রোন নজরদারি ও বিপুল সংখ্যক কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগ উপকূলবাসীর মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।