পিরোজপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাময়িক বরখাস্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদারের পরিবারকে ঘিরে বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকৌশলীর নিজের নামে উল্লেখযোগ্য সম্পদের তথ্য না থাকলেও তার স্ত্রী ও দুই ছেলের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী রীনা পারভীনের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি রয়েছে। একই সঙ্গে কলেজপড়ুয়া দুই ছেলের ব্যাংক হিসাবেও রয়েছে কোটি টাকার লেনদেন ও সম্পদের তথ্য।
দুদক সূত্র জানায়, এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ভুয়া কাজ দেখানো এবং ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে আব্দুস সাত্তার হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দীন মহারাজের পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাত করা হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার হাওলাদার।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আব্দুস সাত্তারের নিজের নামে উল্লেখযোগ্য সম্পদের তথ্য না মিললেও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী রীনা পারভীনের নামে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
পটুয়াখালীর আরামবাগ এলাকায় প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তার নামে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকার পান্থপথ এলাকায় ফেয়ার দিয়া কমপ্লেক্সে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে।
পশ্চিম আগারগাঁওয়ের আবেদীন ড্রিমস প্রকল্পে দুটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য প্রায় দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্যও পেয়েছে দুদক।
সব মিলিয়ে জমি, ফ্ল্যাট ও ভবনসহ প্রায় চার কোটি ৩৮ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর পাশাপাশি ব্যাংক সঞ্চয়, গাড়ি ক্রয় এবং ব্যবসার মূলধনসহ প্রায় এক কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্যও রয়েছে।
দুদকের হিসাবে, রীনা পারভীনের গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস মাত্র ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
ফলে তার নামে পাওয়া প্রায় পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে সংস্থাটি।
দুদকের অনুসন্ধানে প্রকৌশলীর দুই ছেলের নামেও বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাত ও ফজলে রাব্বি রিমন—এই দুই ছেলে সম্পদ অর্জনের সময় ছাত্র ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তাদের কোনো পেশা বা আয়ের উৎস না থাকলেও তাদের নামে কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, দুই ছেলের নামে প্রায় দুই কোটি ৭১ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে।
দুদকের অভিযোগ, অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করার জন্য পরিবারের সদস্যদের নামে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছিল।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, তার স্ত্রী রীনা পারভীন এবং দুই ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাত ও ফজলে রাব্বি রিমনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত ইতোমধ্যে আসামিদের নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু হলে আরও নতুন সম্পদের তথ্য সামনে আসতে পারে।
কসমিক ডেস্ক