ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এই তালিকার অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মোট ৩০টি আসনে নির্বাচন করবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে শরিক দলগুলোর জন্য বরাদ্দ আসনের সংখ্যা তুলে ধরেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, এনসিপির জন্য নির্ধারিত ৩০টি আসনের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় রয়েছে একাধিক আসন। এর মধ্যে ঢাকা-৮, ঢাকা-৯, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৮, ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০ আসনে প্রার্থী দেবে দলটি। এসব আসন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত।
ঢাকার বাইরে উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চল মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় এনসিপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড়-১, দিনাজপুর-৫, রংপুর-৪, কুড়িগ্রাম-২ আসনে নির্বাচন করবে দলটি। মধ্যাঞ্চলে রয়েছে নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-৬, টাঙ্গাইল-৩, ময়মনসিংহ-১১, মুন্সিগঞ্জ-২ ও নরসিংদী-২ আসন।
দক্ষিণাঞ্চলে এনসিপির প্রার্থী থাকছে পিরোজপুর-৩, লক্ষ্মীপুর-১, নোয়াখালী-২ ও নোয়াখালী-৬ আসনে। চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম-৮, কুমিল্লা-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে নির্বাচন করবে দলটি। পাশাপাশি গাজীপুর-২, নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবান আসনও এনসিপির তালিকায় রয়েছে।
জোট নেতারা বলছেন, আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক সক্ষমতা, স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জোটের সামগ্রিক কৌশল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এনসিপির নেতারা মনে করছেন, নির্ধারিত আসনগুলোতে দলটির ভালো ভোটভিত্তি রয়েছে এবং জোটের ঐক্য বজায় রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির এই আসনভিত্তিক অংশগ্রহণ জোট রাজনীতিতে দলটির অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক