তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জুন মাসে এক সপ্তাহের তাপদাহে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ইউরোপে ১৬ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ইউরোপীয় মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তীব্র গরমের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও জার্মানির মতো উত্তর ইউরোপের কয়েকটি দেশে। এসব অঞ্চলের মানুষের একটি বড় অংশ এমন উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে কম অভ্যস্ত। ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।
দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুললেও উত্তর ইউরোপের অনেক এলাকায় এমন প্রস্তুতি তুলনামূলকভাবে কম। অনেক বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা AC-এর ঘাটতিও তাপপ্রবাহ মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সাধারণত শীতকালে সংক্রামক শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের কারণে মৃত্যুর হার বাড়লেও এবারের জুনের তাপপ্রবাহ সেই মৃত্যুহারকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০০৩ ও ২০২২ সালের জুলাইয়েও ইউরোপে ভয়াবহ তাপদাহে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
তীব্র গরমের প্রভাব শুধু মানুষের জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের কয়েকটি প্রধান নদীর পানির স্তর রেকর্ড পর্যায়ে নেমে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের ঘটনাও দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে গ্রীষ্মকাল আরও উষ্ণ ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ফলে ইউরোপের দেশগুলোর জন্য তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, জনসচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এদিকে ইউরোপে নতুন করে তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে দেশটির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্সও জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ প্রায় পুরো ভূখণ্ডে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
পরপর তাপপ্রবাহের এই পরিস্থিতি ইউরোপে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অতিরিক্ত গরম মোকাবিলায় প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
কসমিক ডেস্ক