পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুরা বাল্যবিবাহ, যৌন নির্যাতন এবং বিভিন্ন ধরনের শোষণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। তিনি বলেন, অরক্ষিত পরিবেশে বসবাসের কারণে এসব শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীতে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মজীবী শিশু ও পথশিশুদের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নীতিনির্ধারণী অংশীজনদের নিয়ে সভাটির আয়োজন করে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের শিক্ষা সেক্টরের অধীন পরিচালিত ড্রপ-ইন সেন্টার (ডিআইসি) প্রকল্প।
সমাজকল্যাণ সচিব বলেন, পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুরা প্রতিনিয়ত সহিংসতা, নির্যাতন, বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছে। তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না গেলে বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী শিশু বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিআইসি প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের শিক্ষা সেক্টরের যুগ্ম পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে এখনো বাল্যবিবাহ একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ। দেশে প্রায় অর্ধেক মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়, যা তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সভায় পুলিশের ডিআইজি ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তৈয়ব আবু আহমদ, ডা. মোহাম্মদ খলিল উল্লাহ, ড. এস এম খলিলুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক (কর্মসূচি) কে এম জাহিদুজ্জামানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। তারা শিশু সুরক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামাজিক সচেতনতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
কসমিক ডেস্ক